চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ব্যানারে প্রকাশ্যে বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনা এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। আজ শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মৌলভীর দোকানের দক্ষিণে হঠাৎ করেই এ মিছিল বের করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রিদুয়ানুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল ছাত্রলীগের ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি কয়েক মিনিট স্থায়ী হলেও এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিল চলাকালে “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু”, “শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে”সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে দেখা যায় অংশগ্রহণকারীদের। ভিডিও ফুটেজে মো. রিদুয়ানুল ইসলামকে মিছিলের সামনে থেকে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
ঘটনার আরও তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, মিছিলের এক মিনিট ১০ সেকেন্ডের ভিডিও পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। একই ভিডিও মো. রিদুয়ানুল ইসলামের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতেও পোস্ট করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা কীভাবে প্রকাশ্যে মহাসড়কে মিছিল করার সাহস পেলেন? আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে এমন কর্মকাণ্ড জনমনে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
খবর পেয়ে সাতকানিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা দ্রুত সরে পড়ে এবং আত্মগোপনে চলে যায়।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ছাত্রলীগের মিছিল হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।”
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাতকানিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন তৎপরতার বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা জামায়াতের ইসলামীর সেক্রেটারি তারেক হোসাইন বলেন, ছাত্রলীগ মিছিল করতে পারে এমন একটি আশঙ্কা থেকে প্রতিহত করার জন্য আমরা ঝপ্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা পালিয়ে যায়।