রায়হান সিকদার,লোহাগাড়াঃ
শতবর্ষী বিধবা বৃদ্ধা ভেট্টা খাতুন। বয়স একশ’ ছুঁই ছুঁই। তার বাড়ী চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের হাজির পাড়া এলাকায়। তিনি ওই এলাকার মৃত রৌশন আলীর স্ত্রী। স্বামী ও সন্তান না থাকায় অসহায় এ বৃদ্ধার করুন অবস্থায় দিনাতিপাত করছিলেন। বৃদ্ধা ভেট্টা খাতুন যে বাড়ীতে থাকেন তা জরাজীর্ণ। সেই জরাজীর্ণ বাড়ীতে বৃদ্ধা অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।তার বিয়ে হওয়ার কিছুদিন পর স্বামী রওশন আলী মারা যান। এরপর থেকে বৃদ্ধা খুব বেশী অসহায়। স্বামী হারা বৃদ্ধার নেই কোন ছেলে সন্তান। শতবর্ষী বৃদ্ধা ভেটা খাতুন কি করবেন কেমন করে দিনাতিপাত করবেন এমন প্রশ্ন ছিল অনেকের মুখে মুখে। মাটির জরাজীর্ণ বাড়ীতে বৃদ্ধা একাই থাকেন । তাকে দেখভাল করার মত কেউ নেই। ভাঙ্গা দরজার সামনে শুয়ে শুয়ে বৃদ্ধা এক পলকে তাঁকিয়ে থাকেন বাহিরের দৃশ্য। বৃদ্ধা তাতে কিছু আনন্দ পান। তবে বৃদ্ধাকে একমুঠো ভাত খাইয়ে দিবে কিংবা রান্না করে বৃদ্ধার প্রতি সহনশীল হবে এমন পাশে কেউ ছিলনা।
শত বছরের উর্ধ্বে বৃদ্ধা ভেট্টা খাতুনের মানবেতর জীবন করছেন এমন খবর পেয়ে তার বাড়িতে দেখতে ছুটে যান লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আহসান হাবীব জিতু ।
২৭ অক্টোবর সকালে তিনি বৃদ্ধাকে দেখতে যান। তার পাশে কিছুক্ষণ সময় কাটান ইউএনও মোহাম্মদ আহসান হাবীব জিতু।
বৃদ্ধাকে তাৎক্ষণিক ২টি কম্বল ও অন্যান্য আসবাবপত্র ও নিজস্ব তহবিল হতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। বৃদ্ধার এমন করুণ দৃশ্য দেখে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাবেন একটি বাড়ী, চিকিৎসা সেবা।
এসময় সাথে ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) নীলূফা ইয়াসমিন চৌধুরী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মাহবুব আলম শাওন ভূঁইয়া, পুটিবিলা ইউপির ১নং প্যা্লেন চেয়ারম্যান, স্হানীয় ইউপি সদস্য সুজিত বড়ুয়া কাজল।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আহসান হাবীব জিতু বলেন, জরাজীর্ণ বসতঘরে বৃদ্ধা ভেট্টা খাতুন অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছিলেন। ছেলে সন্তান হারা, স্বামী হারা শতবর্ষী বৃদ্ধা খুব বেশী অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে তার বাড়ীতে দেখতে যায়। শীঘ্রই তাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ী নির্মাণ করে দেওয়া হবে এবং উপজেলা প্রশাসন তাকে সর্বাত্মক সহযোগীতা প্রদানেরও আশ্বাস দেন তিনি।
ইউএনও`র এমন মহানুভবতা দেখে বৃদ্ধা অনেক বেশী খুশী ও আনন্দিত।