রায়হান সিকদারঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পদুয়া ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় মধ্যম ধলিবিলা এলাকায় হযরত শেখ শরফুদ্দীন বু-আলী শাহ কালন্দর (রহঃ) এর আস্তানা শরীফ মানুষের খুব বেশি পরিচিত ও সমাদৃত হয়েছে।
প্রায় ২শ বছর পুর্বে শেখ সৈয়দ শরফুদ্দিন বোয়ালী কালন্দর ( রহঃ) এর আস্তানাটি লোহাগাড়া মধ্যম ধলিবিলা দরবার শরীফ হিসেবে পরিচিত হয়ে আসছে। সারাদেশে গোয়ালি কালন্দর এর আস্তানা শরীফ রয়েছে। ২শত বছরের পুর্বেরও বেশি ইসলাম প্রচার করার জন্য ওলিয়া কেরামগণ কে সাথে নিয়ে এসেছিলেন। হযরত ইমাম হোসেন রাঃ রওজা শরীফের হযরত বোয়ালী কালন্দর রাঃ প্রতি বছরের ইংরেজী মার্চ মাসের ২৭ তারিখ এবং বাংলা চৈত্র মাসের ১৩ তারিখ মিলাদ মাহফিল,ওরশ শরীফ ও সেমা মাহফিল, সেমাইয়া যিকির পালন করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তরা এখানে আসেন বিভিন্ন মনের ভাসনা নিয়ে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৮নাম্বার ওয়ার্ডস্থ মধ্যম ধলিবিলায় অবস্থিত শেখ সৈয়দ শরফুদ্দিন বোয়ালী কালন্দর ( রহঃ) এর আস্তানাটি। এই জায়গাটি পাহাড়-পর্বত এলাকা ছিল। অনেক আগে এখানে বাঘ ভাল্লুকরা বসবাস করতো। এই পাহাড়ি এলাকায় মোহাম্মদ ইসমাঈল ফকির নামে একজন মহিষ আর গরু চড়াতো। গরু চড়ানোর সময়ে মোঁচা নিয়ে বসে বসে খেতো। তিনি একজন এতিম ছিলেন। তার চাচা কালু মিয়ার কাছেই লালন পালন করে বড় হন তিনি। তিনি যখন একদিন কান্না করছিল,পাহাড় থেকে দুই টি ব্যক্তি নেমে জিজ্ঞেস করলেন, কেন কান্না করতেছে? শরফুদ্দিন বোয়ালী কালন্দর ( রহঃ) এর আস্তানা আসার পর থেকেই প্রায় ৪০বছরের বেশি ইসমাঈল ফকির খাদেম ছিলেন। তিনি তার সময়ে প্রতি বছরে ওরশ শরীফ, মাহফিল করতেন। সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তরা আসতেন।
এই মহান অলীর আস্তানা শরীফ চিহ্নিত করেন, এলাকার মানুষ জনকে এই মাজার শরীফ নির্মান, ওরশ শরীফ উদযাপন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।শেখ শরফুদ্দিন বু আলী কালন্দর একজন সূফি সাধক ছিলেন।এই মহান সাধকের অনেক উপাখ্যান লোক মুখে এখনো প্রচলিত রয়েছে।
বর্তমানে ধলিবিলার এ আস্তানা শরীফটি মানুষের কাছে বহুল পরিচিত ছিল। ইসমাঈল ফকিরের মৃত্যুবরণের পর খাদেমের দায়িত্ব পালন করছেন ইসমাঈল ফকিরের পুত্র খাদেম শেখ আহমদ বিন ইসমাঈল । তিনি হযরত শরফুদ্দীন বু-আলী কালন্দর শাহ (রহঃ) এর আস্তানা শরীফে দায়িত্ব পালন কালে জায়গা নিয়ে ষড়ষন্ত্রও করেছেন। তিনি সব ধরণের ষড়ষন্ত্র মোকাবেলা করে বর্তমানে খাদেমের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। প্রতি বছরে ইংরেজী মার্চ মাসের ২৭ তারিখ এবং বাংলা চৈত্র মাসের ১৩ তারিখ মিলাদ মাহফিল,ওরশ শরীফ ও সেমা মাহফিল, সেমাইয়া যিকির পালন করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তরা এখানে আসেন বিভিন্ন মনের ভাসনা নিয়ে। দোআ নেওয়ার জন্যও আসেন। তিনি আরও বলেন, আল্লাহর মহান এই অলীর মাজার শরীফ ভারতের পানিপথ এলাকায়। বাংলাদেশের ওনার বিভিন্ন এলাকায় আস্তানা শরীফ রয়েছে।আমার বাবা থেকে শুনেছি ওনি সবসময় আল্লাহর দিকে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় অবস্থান করতেন। খাদেম শেখ আহমদ বিন ইসমাঈল আরও বলেন, আল্লাহর এই ওলি সম্পর্কে আমার বাবার মুখে অনেক ইতিহাস শুনেছি। এ আস্তানা শরীফে মানুষ (ভক্তরা) দোআ নিতে আসে। এখানে কোন ধরণের মাজার পূজা হয়না। এটি সম্পুর্ণ হারাম। বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তরা এসে অনেক ফলও পেয়েছেন।
কিভাবে যাওয়া যায়ঃ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার বাস যোগে পদুয়া তেওয়ারি হাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে সিএনজি অথবা জীপ নিয়ে হাঙ্গার সেতুর উপর দিয়ে মধ্য ধলিবিলা বোয়ালী শাহ কালন্দর ও হোসেন শাহ এর দরবার শরীফে যাওয়া যায়।