রায়হান সিকদারঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ৭ টি দোকান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
১১ জুলাই (শনিবার) ভোররাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দরবেশহাট বাজারের দীঘির দক্ষিণ পাশে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।
অগ্নিকান্ডে শামসুল আলমের সারের দোকান, আবু তাহেরের ডেকোরেশন,লেপ-তোষকের দোকান,নাজিম উদ্দিনের লেপ-তোষকের দোকান ও কারখানা,জসির উদ্দিনের ইলেকট্রনিকসের দোকান এবং রতন কর্মকারের কামারের দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, ভোররাতে একটি দোকানে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা মুহুর্তেই পার্শ্ববর্তী দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে বাজারের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয়দের আগুন নেভানোর কাজে ডাক দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী শামসুল আলম জানান, ভোরে দোকানের কর্মচারীর কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। দোকানে থাকা সার, মালামাল ও নগদ টাকাসহ সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় তিনি এখন চরম দুর্দশায় পড়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
আরেক ব্যবসায়ী আবু তাহের জানান, তার ডেকোরেশনের সরঞ্জাম ও লেপ-তোষকের সব মালামাল পুড়ে প্রায় ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সংসার চালানোর সব অবলম্বন পুড়ে যাওয়ায় চরম হতাশা প্রকাশ করে তিনি সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন।
লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা রাখাল চন্দ্র রুদ্র জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে খবর পেয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য নাজমুল মোস্তফা আমিন ও এসএম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: বায়েজীদ বিন-আখন্দ বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেছি। শীঘ্রই সার্বিক সহযোগীতার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।