শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা বিকাশ, শিল্পবোধ জাগ্রত করা এবং সাংস্কৃতিক চর্চায় উৎসাহ দিতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চুনতি লাইটহাউস শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা’।
শনিবার (৩০ মে) চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতির শাহ মঞ্জিলে অবস্থিত সীরাত মিলনায়তনে সকাল ৯টা থেকে প্রতিযোগিতার কার্যক্রম শুরু হয়। এতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নিবন্ধিত ৪৩০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
সকাল থেকেই শিশু-কিশোরদের প্রাণচঞ্চল উপস্থিতিতে পুরো চুনতি লাইটহাউস প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। রং-তুলি আর ক্যানভাসে ফুটে ওঠে তাদের কল্পনা, স্বপ্ন ও সৃজনশীল ভাবনার নানা রূপ। সন্তানদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিতে অভিভাবকদেরও ছিল সরব উপস্থিতি।
প্রতিযোগিতা চারটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রুপ-১, চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য গ্রুপ-২, সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির জন্য গ্রুপ-৩ এবং একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রুপ-৪ নির্ধারণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এবারের প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল উন্মুক্ত। ফলে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের কল্পনা, অনুভূতি ও সৃজনশীলতার স্বাধীন প্রকাশ ঘটানোর সুযোগ পেয়েছে।
প্রতিযোগিতার মূল্যায়নের দায়িত্বে রয়েছেন দেশের স্বনামধন্য চারুকলা ও শিল্পাঙ্গনের ব্যক্তিত্বরা। প্রধান বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। সহকারী বিচারক হিসেবে রয়েছেন চিত্রশিল্পী ও শিক্ষক মজুমদার শাকিল এবং চিত্রশিল্পী ও ডিজাইনার আবদুল হালিম।
সামাজিক সংগঠন ‘চুনতি লাইটহাউস’-এর সাধারণ সম্পাদক রবিউল হাসান আশিক বলেন, “শিশুদের হাতে বই, রং ও সৃজনশীলতার উপকরণ তুলে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে শিশু-কিশোরদের কল্পনাশক্তি, নান্দনিক বোধ ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে শিল্পচর্চার কোনো বিকল্প নেই। চুনতি লাইটহাউস বিশ্বাস করে, আজকের এই ছোট্ট শিল্পীরাই আগামী দিনের সৃজনশীল বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই তাদের প্রতিভা বিকাশের জন্য আমরা নিয়মিতভাবে এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা নিয়েছি।”
চুনতি লাইটহাউসের চেয়ারপারসন সুরাইয়া জান্নাত খান বলেন, “নতুন প্রজন্মের সৃজনশীলতা, নান্দনিক চর্চা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে উৎসাহ দিতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় চারশোর বেশি প্রতিযোগীর অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আগামী প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশ ও ইতিবাচক চিন্তাধারার চর্চায় এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিতর্ক, চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ, মেধাবী ও মানবিক প্রজন্ম গঠনে চুনতি লাইটহাউস কাজ করে যাচ্ছে।”
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল হালিম বলেন, “এ ধরনের আয়োজন শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে জাতীয় পর্যায়ে এ প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।”
আয়োজকরা জানান, প্রতিটি গ্রুপ থেকে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে এবং সকল অংশগ্রহণকারীকে সনদপত্র প্রদান করা হবে। পাশাপাশি প্রতিযোগীদের নির্বাচিত চিত্রকর্ম নিয়ে পরবর্তীতে একটি বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।