চীনে মহামারী আকার ধারণ করেছে করোনা ভাইরাস। ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে প্রায় পাঁচশ জন। এর মধ্যে চীনের বাইরে মারা গেছে মাত্র দুজন। বাকি সবাই চীনেই মারা গেছে। নতুনভাবে আক্রান্ত হচ্ছে শত শত রোগী। ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। বন্দর নগরীতেও করোনা ভাইরাস রোধে সিটি কর্পোরেশন থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। বাইরে বের হলেই মুখে মাস্ক পরে বের হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। ফলে সকল শ্রেণিপেশার মানুষ ভাইরাস থেকে বাঁচতে মাস্ক ব্যবহার করছে। এই সুযোগে মাস্কের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এক শ্রেণির আসাধু ব্যবসায়ী।
সরেজমিনে জানা যায়, নগরী বিভিন্ন স্থানে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাস্ক। আগে ফিল্টার মাস্ক বিক্রি করা হতো ২০-৩০ টাকায়। তা এখন বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়। এক বক্স সার্জিক্যাল মাস্কের আগে দাম ছিল ১২০ টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়। খুচরায় বিক্রি হতো একটি ৫ টাকা করে তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১০-১২ টাকায়। নগরীর বিয়াজউদ্দীন বাজারের পাইকারি দোকানগুলোতে মাস্কের সংকট দেখা দিয়েছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, চায়না থেকে আমদানিকৃত ফিল্টার মাস্কগুলোর সরবরাহ একেবারে নেই বললেই চলে।
নগরীর ২নং গেট থেকে ৮০ টাকায় একটি ফিল্টার মাস্ক কিনেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিলা রুদ্র। তিনি জানান, মাত্র এক সপ্তাহ আগে এই মাস্ক কিনছিলাম ২০ টাকায়। এখন মানুষেয় অসহায়ত্বকে পুঁজি করে বাড়তি টাকা আদায় করে নিচ্ছে বিক্রেতারা।
হকার্স রহিম মিয়া বলেন, আমাদের কিছুই করার নাই। পাইকারি দোকানে দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আগে এক বক্স সার্জিক্যাল মাস্কের পাইকারি দাম ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কিন্তু এখন কিনতে হচ্ছে প্রতি বক্স ২০০ টাকায়। আগে প্রতি ডজন ফিল্টার মাস্কের পাইকারি দাম ছিল ২৫০ টাকা এখন কিনতে হচ্ছে ৫০০ টাকায়। এমনকি টাকা দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না।
তবে এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. হাসানুজ্জামান। তিনি জানান, চায়না থেকে এসব মাস্ক আমদানি করা হয়। বর্তমানে আমদানি বন্ধ হওয়ায় সংকট দেখা দেয়। ঢাকার ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম থেকেও মাস্ক কিনে নিয়ে যায়। যার ফলে চট্টগ্রাম নগরীতে এর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্তু কোথাও মজুদ করা অবস্থায় কোনো মাস্ক পাই নি।
