রায়হান সিকদার, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নারীদের ন্যায়বিচার পথকে সহজ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার, ইউরোপিয় ইউনিয়ন এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশ এর আর্থিক ও কারিগরী সহযোগীতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প। চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। গ্রাম আদালত সেবা সর্ম্পকে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে প্রকল্পের সহযোগী সংস্থা বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট ব্লাস্ট সহ সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তারই অংশ হিসেবে সাতকানিয়া উপজেলার মার্দার্শা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যাগে গ্রামের বিভিন্ন হাট-বাজার, চায়ের দোকানে প্রচারিত হচ্ছে গ্রাম আদালত বিষয়ক ভিডিও ডকুমেন্ট/নাটিকা #বাড়ীর পাশে গ্রাম আদালত#
গ্রামের বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত সাধারণ মানুষ সারাদিনের কাজকর্ম সেরে একটু বিনোদনের আশায় জড়ো হয় স্থানীয় হাট-বাজার, এবং বিভিন্ন চায়ের দোকানে। সেখানে তারা সন্ধ্যা হতে রাত পর্যন্ত একটু বিনোদনের আশায় মগ্ন থাকে টিভি পর্দায়। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে তাদের নজর থাকে টিভি পর্দার দিকে। নাটক, সিনেমা, খেলাধুলা, সংবাদ সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মত্ত থাকে তারা। তাদের সে বিনোদনের জায়গায় নতুন করে যুক্ত হল গ্রাম আদালত বিষয়ক নাটিকা #বাড়ীর কাছে গ্রাম আদালত। যা দেখে গ্রামের সাধারণ মানুষ বিনোদনের পাশাপাশি গ্রাম আদালত সেবা সর্ম্পকে অবহিত হচ্ছে। সাধারণত গ্রামের মানুষ তাদের ছোট খাটো বিরোধ সমূহ মিমাংসার জন্য সঠিক আইনী ধারনা না থাকায় প্রকৃত আইনী সেবা হতে বঞ্চিত হয়। জেলা আদালতে গিয়ে আইনী সেবা নিবে সেই সামর্থ্যও অনেক সময় তাদের থাকে না। তারই মাঝে গ্রাম আদালত সর্ম্পকিত ভিডিও ডকুমেন্ট দেখে এলাকার সাধারণ জনগণ গ্রাম আদালতের মাধ্যমে কিভাবে অল্প সময়ে, কম খরচে ও দ্রুত বিরোধ নিস্পত্তি করা হয় যায় সে সর্ম্পকে জানতে পারছে। মাদার্শা ইউনিয়নের বাসিন্দা জিয়াবুল হক, গ্রাম আদালত বিষয়ক নাটিকা দেখার পর তার অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন “ভিডিওতে যেভাবে আদালত দেখলাম এভাবে আমাদের ইউনিয়নে আদালত চলে তা আমার জানা ছিল না। গ্রাম আদালতে যেভাবে সহজে এবং দ্রুত বিচার পাওয়া যায় এতে আমাদের আর থানা কিংবা আদালতে যেতে হবে না। বাড়ীর পাশেই আমরা একটি আদালত পেলাম। এতে আমরা খুবই উপকৃত হব।
উল্লেখ্য, গ্রাম আদালত ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন সর্বোচ্চ ৭৫০০০ টাকা মূল্যমানের যে কোন দেওয়ানী ও ফৌজদারী বিরোধ নিস্পত্তি করতে পারে। ছোট খাট স্থানীয় বিরোধ সমূহ গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিস্পত্তি করা গেলে জেলা আদালত গুলোতে যেমনি মামলার জট কমবে, তেমনি মানুষ সহজে ও দ্রুত ন্যায় বিচার পাবে বলে।