রায়হান সিকদার,দেশবাংলা ডটনেটঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের শুকলাল ড্রীম হাউসের উঠানে। সেখানে চলছিল মনসার পুঁথিপাঠের আসর।
স্থানীয় ও স্বনামধন্য শিল্পীরা সেখানে পুঁথির গান পরিবেশন করেন। (মঙ্গলবার) ১ আগস্ট রাতে এ পুঁথি পাঠের আয়োজন চলে
হিন্দুধর্মে মনসা সর্পদেবী। সর্পদংশন প্রতিরোধ ও সাপের বিষের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তাঁর পূজা করা হয়। মনসার পূজা উপলক্ষে বড়হাতিয়ায় মনসার পুঁথি পাঠের আয়োজন করেন দক্ষিণ জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক, দানবীর ও সমাজসেবক বাবু শুকলাল শীল।
একই দিন সন্ধ্যায় পুঁথি পাঠের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন বাবু শুকলাল শীল।
এসময় দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য জেয়াবুল হক প্রকাশ লাতু চৌধুরী, সাবেক ইউপি সদস্য সুনীল সরকার, অনীল সরকার, সাংবাদিক খোকন সুশীল, কন্ঠশিল্পী মৃদুল শীলসহ সনাতনী সম্প্রদায়ের নেতারা, স্থানীয় হিন্দু পাড়ার নারী-পুরুষসহ অনেকেই।
অনুষ্ঠানে দক্ষিণ জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক, দানবীর ও সমাজসেবক বাবু শুকলাল শীলের পক্ষ থেকে সকলের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়।
জানা যায়, আবহমান কাল থেকে বাংলার গ্রামে-গঞ্জে পুঁথি, পাঁচালি, মঙ্গল কাব্য, মনসা মঙ্গল পাঠ খুবই জনপ্রিয়। বিশেষজ্ঞদের মতে খ্রিষ্টীয় দশম-একাদশ শতাব্দীতে বাংলায় মনসার পূজা প্রবর্তন শুরু হয়। মধ্যযুগের কবি হরিদত্ত , বিজয়গুপ্ত, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, বিপ্রদাস পিপলাই প্রমুখ রচিত বাংলা সাহিত্যের আলোচিত মনসামঙ্গল কাব্য। এই কাব্যে সেযুগের সমাজব্যবস্থা, অর্থনীতি, আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি ফুটে উঠে। বিশেষ করে শ্রাবণ মাসে (পুরা মাসব্যাপী) মনসা পূজার আগে পুঁথি পাঠ সম্পন্ন করতে হয়।