রায়হান সিকদারঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বার আউলিয়া টংকাবতী সড়ক (পদুয়া-চরম্বা-নাফারটিলা সড়কটি) খুব বেশী জনগুরুত্বপুর্ণ। গেল কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণে পানির,তীব্র স্রোতে সড়কের মাইজবিলা বড়ুয়া পাড়ার টেকের একটি অংশে বিলীন হয়ে গেছে।সড়কটি অংশে ভেঙে যাওয়ার কারণে এলাকার শত শত যানবাহন, হাজার হাজার মানুষ ও পথচারীদের চলাচলে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে।সড়কের একটি অংশ ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের মাইজবিলা বড়ুয়ার টেকের অংশে সড়কের একপাশে ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তের বাইরে যান চলাচলের জন্য অল্প একটু জায়গা আছে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় লোকজন ওই স্থানে লাল কাপড়ের পতাকা টাঙিয়ে দিয়েছেন। এই সড়ক দিয়ে লোহাগাড়ার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ পার্বত্য বান্দরবান জেলায় যাতায়াত করে থাকে। বিশেষ করে চরম্বার বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন যানবাহনে চলাচল করে। সড়কের ভাঙা অংশে লাল পতাকা না দেখলে যে কেউ এখানে এসে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে।
জানা যায়, গেল কয়েকদিন ধরে ভারি বর্ষণ চলমান রয়েছে। ভারি বর্ষণে পানির তীব্র স্রোতের কারণে সড়কের অংশ ভেঙে গেছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বর্ষার ভারী বৃষ্টিপাত চলমান থাকলে পাহাড়ের মাটির ক্ষয় আরও ত্বরান্বিত হবে এবং অবশিষ্ট সড়কটুকু সম্পূর্ণ ধসে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে জীর্ণ এই অংশটি দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করলে যে-কোনো মুহূর্তে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে।
স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা, সংবাদকর্মী আবদুল ওয়াহাব বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এত বড় গর্ত থাকাটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত সময়ে এই সড়কে ভাঙন অংশ সংস্কার করা জরুরি।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. আবদুল মালেক জানান, তিনি প্রায়ই এই সড়কে চলাচল করেন। সড়কের এই অংশে এসে খুব সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে হয়। সড়কটি বান্দরবান সংযোগ–সড়ক হওয়ার কারণে দ্রুত সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই অংশ মেরামত করা দরকার।
সিএনজি চালক মোঃ আলমগীর বলেন,
সড়কের এই ঝুঁকিপূর্ণ অংশ অতিক্রম করতে খুব ভয় লাগে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এখানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। লাল পতাকা অনেক সময় দেখা যায় না।
অটোরিকশাচালক কালু মিয়া বলেন, সড়কের এই অংশে বড় কোনো গাড়ি ঢুকতে পারে না। ছোট গাড়িগুলোকে খুব ভয় নিয়ে চলতে হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, সড়কটি আমাদের জন্য খুব জনগুরুত্বপুর্ণ। আমাদের চলাচলের একমাত্র সড়ক। গেল কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে মাইজবিলা বড়ুয়ার টেক এলাকায় সড়কের অংশ ভেঙে গেছে। এলাকার মানুষ চলাচলে রীতিমত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ সৈয়দ হোসেন বলেন, সড়কটি চলাচলের জন্য খুব বেশি গুরুত্বপুর্ণ। দ্রুত সময়ে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিলে এলাকার মানুষ অনেক উপকৃত হবে।
লোহাগাড়া উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারি প্রকৌশলী মঈনু্ল ইসলাম বলেন, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে,সড়ক ও জনপথ বিভাগ বান্দরবান এ সড়কটি দেখভাল করে থাকে।
বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ ফারহান বলেন, সড়কের ভাঙনের বিষয়ে আপনার মাধ্যমে জেনেছি। ভাঙন অংশটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য উপ-সহকারি প্রকৌশলীকে পাঠানো হবে। দ্রুত সময়ে সড়কের ভাঙন এলাকা মেরামতের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সড়কের ভেঙে যাওয়া দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের কাছে সুদৃষ্ঠি কামনা করেছেন এলাকার জনসাধারণ, পথচারি, শিক্ষার্থী ও গাড়ি চালকরা।