বাগেরহাটের রামপালে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর–কনেসহ অন্তত ১৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আনন্দমুখর বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই উৎসবের পরিবেশ পরিণত হয় শোকের মাতমে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় খুলনা–মোংলা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পরপরই পুরো এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য। দুমড়ে–মুচড়ে যাওয়া মাইক্রোবাসের ভেতরে আটকে ছিলেন নবদম্পতি ও স্বজনরা। চারদিকে কান্না, আহাজারি আর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকার দৃশ্য উপস্থিত সবার হৃদয়কে ভারী করে তোলে। স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করার চেষ্টা করেন, কিন্তু ততক্ষণে অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং নয়জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
নিহত কনে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) মামা আবু তাহের জানান, খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা এলাকায় দুপুরে মার্জিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর বরযাত্রীদের মাইক্রোবাসে করে মার্জিয়া তার শ্বশুরবাড়ি মোংলার শেলাবুনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে রামপালের বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। এতে মার্জিয়া, তার বোন লামিয়া ও নানী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। বরসহ আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
মোংলা পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম বলেন, মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে সাব্বিরের বিয়ে হয়েছিল। তিনি ছেলে ও নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। দুর্ঘটনায় আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে–পুত্রবধূ, মেয়েসহ মোট আটজন নিহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোংলা থেকে ছেড়ে আসা নৌবাহিনীর একটি বাস বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোংলাগামী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় দুই গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে–মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন এবং অনেকেই গুরুতর আহত হন।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম হাসানুজ্জামান বলেন, নৌবাহিনীর যাত্রীবাহী বাসটি খুলনার দিকে যাচ্ছিল এবং মাইক্রোবাসটি মোংলার দিকে যাচ্ছিল। বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, এতে মাইক্রোবাসটি সম্পূর্ণ দুমড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, নিহত চারজনের মরদেহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে এবং আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত হাসপাতালে আটজনের মরদেহ আনা হয়। তাদের মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী এবং দুইজন পুরুষ ছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি থাকা আরও একজনও পরে মারা যান।
একদিনের বিয়ের আনন্দ শেষ হতে না হতেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুই পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে হাসপাতাল ও দুর্ঘটনাস্থলের পরিবেশ হয়ে ওঠে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।