
রায়হান সিকদারঃ
মফস্বল এলাকায় চিকিৎসা সেবা মানুষের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর সূফি মিয়াজি পাড়া সমাজকল্যাণ পরিষদ।
মফস্বল এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে চিকিৎসা যেন এক বড় সংগ্রামের নাম। গ্রামের বিভিন্ন দরিদ্র পরিবারকে ভুগতে হয় নানা শারীরিক সমস্যায়। এমন বাস্তবতায় নিজেই সুস্থ থাকুন, নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখুন
মানবতার সেবায়, সুস্থ সমাজ গড়ি এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক,মানবিক ডাক্তার খ্যাত, ট্রমা ও অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ, ডা, মাহমুদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে অভিজ্ঞ মেডিকেল টিম নিয়ে ব্লাড গ্রুপ ও ডায়াবেটিকস পরীক্ষা এবং মেডিকেল যন্ত্রপাতি ব্যবস্থায় লোহাগাড়া সাউন্ড হেলথ হাসপাতালের সার্বিক সহযোগিতায় শনিবার (৩০ মে) ঈদ উপলক্ষে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে আধুনগর গুল-এ-জার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে দিনব্যাপী ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
ক্যাম্পে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ এক হাজারের অধিক লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়।
সকাল থেকেই দূর-দূরান্তের বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে ভিড় করেন সাধারণ মানুষ। চিকিৎসকদের আন্তরিক সেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুটিবিলার ওয়াজ উদ্দিন সিকদার পাড়ার বাসিন্দা, ৮০বছরের বৃদ্ধ হামিদুর রহমান বলেন, প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে এসেছি। চিকিৎসা সেবা নিতে পেরেই খুব ভাল লাগছে। এই ক্যাম্পে বিনামূল্যে ডাক্তার দেখাতে পেরে অনেক উপকার হয়েছে।
স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা তারেক বলেন, ‘ঈদের সময় এমন আয়োজন সত্যিই আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা। গরিব মানুষ চিকিৎসা ও ওষুধ দুটোই পেয়েছে।’
চুনতির বাসিন্দা নুর বেগম বলেন, আমাদের গ্রাম পাহাড়ি এলাকা বলেই এখানকার মানুষ সবকিছু থেকেই পিছিয়ে। বিশেষ করে চিকিৎসা নিতে গেলে জেলা শহরে যেতে হয়, যেটা অনেকের সামর্থ্যের বাইরে। আজ এখানে চিকিৎসা পেয়ে অনেক খুশি।’
সকালে ফ্রী চিকিৎসা ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিকতায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান, সূফি মিয়াজি পাড়া সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি,আইআইইউসির অধ্যাপক ড. হেলাল উদ্দিন মোহাম্মদ নোমান, ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প-২৬ এর আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ শাহেদ, সদস্য সচিব মোঃ সাইফুল ইসলাম,সদস্য মাওলানা ছলাহ উদ্দীন বেলাল,মাওলানা আব্দুল কাদের, মাওলানা সরওয়ার কামাল, সৈয়দ আনোয়ার, কামরুল হুদা ছলিম উল্লাহ, এইচএম তারেক প্রমুখ।
ফ্রী চিকিৎসা ক্যাম্পে দিনব্যাপী সবধরণের রোগীদের কে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক, ট্রমা, অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. মাহমুদুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য প.প কর্মকর্তা,শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাক্তন আরএমও ডা.ইশতিয়াকুর রহমান, ডা. সূফি মোহাম্মদ আসহাব উদ্দিন, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. ফাহিম বিন আমিন, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ শোয়েইব রাব্বি, শিশু,বিশেষজ্ঞ ডা. তাহসিন মোস্তফা, ওরাল ও ডেন্টাল ডা. নাবিলা তারান্নুম, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. নাজিয়া বিনতে আমিন, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা নুসরাত ইমা, ওরাল ও ডেন্টাল ডা. হোজাইলা বিনতা জয়নাল, সাদিয়া আফরিন সুইটি, কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, চক্ষু রোগের অভিজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মোঃ নুরুল ইসলাম ফাহিম, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও চর্ম রোগের চিকিৎসক ডা. মুহিবুর রহমান রোবায়েত, শিশু,রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ আসাদুজ্জামান, স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাসিরম আফরোজ খাঁন, স্ত্রী রোগের চিকিৎসক ডা. মাঈশা ইবনাত, মেডিসিন চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহাত মিতু, মেহরিন বিনতে মাহমুদ, মরিয়ম বেগম তাহিয়া ও জান্নাতুল নাঈমা।
ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প-২৬ এর আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ শাহেদ বলেন, ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতেই আমাদের এলাকার রত্ন ডা.মাহমুদুর রহমানের তত্বাবধানে এলাকার তরুণ চিকিৎসকদের নিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এই ক্যাম্পে চিকিৎসকের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। এরকম মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পের প্রধান সমন্বয়ক ট্রমা অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. মাহমুদুর রহমান বলেন,১৯৯৬থেকে গ্রামে এসে এলাকার মানুষদেরকে চিকিসা সেবা দিয়ে আসছি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও চাকরি করার সুবাধে গ্রামের মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছি। এমএস পাস করার পরও প্রতি শুক্রবারে লোহাগাড়ায় চেম্বার করছি। গ্রামের মানুষ কে আমার সাধ্যমতে চিকিৎসা সেবাটা দেওয়ার চেষ্ঠা করি। আমার মূল উদ্দেশ্য,হলো এলাকার মানুষ যাতে আমার কাছ থেকে সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবাটা পায়। তিনি আরও বলেন, আমার দ্বিতীয় একটা উদ্দেশে আমার সন্তানেরদের গ্রাম মূখী করার জন্য মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করেছি।আমি আমার গ্রামে উদাহারণ তৈরী করতে চাই তারা যেন আমার মতোন করে গ্রামের দরিদ্র মানুষকে চিকিৎসা সেবাটা পৌঁছে দিতে পারে।গ্রামের মানুষের সাথে মিশে এবং গ্রামের মানুষের সাথে কিছুটা হলেও হাসি ফোটাতে পারে সেলক্ষ্যে আমাদের এই অগ্রযাত্রা। আমাদের এই ধরণের ব্যতিক্রমী আয়োজন আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান।