নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা প্রসিদ্ধ ওমর আলী মহাজন জামে মসজিদ থেকে টাকা আত্নসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে মহাজন জামে মসজিদ ও স্হানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে চরম্বা নাছির মুহাম্মদ পাড়ার মদন মিয়ার পুত্র মুহাম্মদ শাহজাহান বাদী হয়ে ইদ্রিস মিয়ার পুত্র মসজিদের মুতোয়াল্লী মুহাম্মদ আলমগীর ও ইয়াকুব মিয়ার পুত্র ওমরকে বিবাদী করে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাতকানিয়া সার্কেল বরারব একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সুত্রে প্রকাশ, উপজেলার চরম্বা ঐতিহ্যবাহী ২০০বছরের প্রাচীনতম মহাজন জামে মসজিদটি আওলিয়া স্হান হওয়ায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ নামাজ আদায় ও জেয়ারতের নিয়তে এখানে আগমন করেন। ধর্মপ্রাণ মানুষ মসজিদের উন্নয়নে সার্বিকভাবে সহযোগীতা দিয়ে আসছেন। প্রসিদ্ধ মসজিদ হলেও মসজিদ কমিটি না থাকার কারণে অকার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিবাদী আলম মসজিদের টাকা আত্নসাৎ করে বিলাসবহুল জীবন-যাপন করে আসছেন। বর্তমানে আলমগীরের গরুর খামার,জায়গা-জমি,গাড়িসহ সহ লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পদ যাহা মসজিদের টাকায় গড়া । বর্তমান মসজিদ কমিটি মসজিদের উন্নয়নে অনেক কাজ সম্পাদন করেছেন। নিজের স্বার্থ রক্ষা ও মসজিদ কমিটির টাকা আত্নসাৎ করতে না পারায় প্রতিনিয়ত বিবাদীগণ হুমকি-ধমকি প্রদান করছেন।
এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ শাহজাহান জানান,মসজিদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে । আমি মসজিদের দায়িত্ব নেওয়ার পর মসজিদের উন্নয়নে কাজ করেছি। এই মসজিদের ঐতিহ্য রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মসজিদের মুতোয়াল্লী মুহাম্মদ আলমগীর মসজিদ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্নসাৎ করেছে।টাকা আত্নসাৎ এর পরে কোন হিসাব আলমগীর দিতে পারেননি। আমরা চাই মসজিদের উন্নয়ন। এলাকায় এই মসজিদ সুনামের সাথে থাকুক। আমরা সুষ্টু তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
অন্যদিকে,অভিযুক্ত মসজিদের মুতোয়াল্লী মুহাম্মদ আলমগীর মুঠোফোনে উক্ত প্রতিবেদককে জানান, সাংবাদিক ভাই আসলে দেখেন এই মসজিদের মুতোয়াল্লীর দায়িত্ব আমার পরিবারের পুর্ব পুরুষেরা দীর্ঘদিন ধরে পালন করে আসছে। সুনামের সাথে এখন আমি দায়িত্ব পালন করে আসছিলাম। কিন্তু আমাকে জোরপুর্বক শাহজাহানসহ অারো কয়েকজন মিলে বের করে দিয়ে মসজিদ দখল করে নেন। আর অভিযোগে টাকা আত্নসাৎ এর ঘটনার সাথে আমার সাথে কোন সম্পৃক্ততা নেই। ঘটনাটি সম্পুর্ণ ষড়ষন্ত্র। আমি ষড়ষন্ত্রের শিকার মাত্র। দীর্ঘদিন ধরে তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়ষন্ত্রের মাধ্যমে উঠে পড়ে লেগেছে।টাকা আত্নসাৎ এর সাথে তিনি জড়িত নন বলেও দাবী করেন।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মুহাম্মদ আহসান হাবীব জিতু জানান,এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপুর্বক উভয়পক্ষ কে ডেকে সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া রহমান জিকু জানান, অভিযোগের বিষয়ে আমি অবগত রয়েছি।ঘটনা সম্পর্কে জেনেছি। তদন্তপুর্বক উভয়পক্ষ কে ডেকে সমাধান করার আশ্বাস দেন তিনি ।