রায়হান সিকদারঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় জায়গা-জমির বিরোধ কে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় মাওলানা আবুল কাসেম (৫৯) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুত্বর আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
১৩মে (বুধবার) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ৬নাম্বার ওয়ার্ডের জান মোহাম্মদ পাড়ায় এই ঘটনাটি ঘটেছে।
নিহত মাওলানা আবুল কাসেম ওই এলাকার মৃত আবদুস সোবাহানের পুত্র। তিনি চরম্বা জামেউল মাদ্রাসার সুপারের দায়িত্ব পালন করছেন এবং তিনি ২মেয়ে তিন ছেলে সন্তানের জনক বলে জানা গেছে।
আহতেরা হলেন একই এলাকার হাফেজ আহমদের পুত্র মোঃ শাহ আলম (৩৭) এবং মৃত আবদুস সোবাহানের কন্যা ছকিনা বেগম (৫৫)।
এ ঘটনায় একই এলাকার কবির আহমদের পুত্র মোঃ সমশুল ইসলাম (৩৮) কে আটক করেছে থানা পুলিশ।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, সকালে জোরপুর্বক প্রতিপক্ষরা আবুল কাসেমের জায়গায় কাজ করছিল। এতে আবুল কাসেম বাঁধা প্রদান করলে অতর্কিত ভাবে তাকে লাটিসোটা দিয়েই মাথায় আঘাত করলে সে মাটিতে পড়ে যায়।দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শাহ আলম ও ছকিনা বেগম গুরুত্বর আহত হয়েছে।
নিহতের মেয়ে হাফছা বেগম বলেন, সকালে তার বাবার জায়গাতে প্রতিপক্ষরা দলবল নিয়ে জোরপুর্বক লোহা,ইট বালু এনে মেস্ত্রী এনে পাকা ঘর নির্মাণের জন্য কাজ শুরু করছিল। প্রথমে আমার ফুফি তাদেরকে বাঁধা দেন। তাকে মারধর করতে এগিয়ে আসে। তখন আমার আব্বুকে আমি ডেকে নিয়ে আসি। বাবা ঘটনাস্থলে আসতেই হারুন ও সমশু মিলে তার বাবার পিছনে জোরেশোরে মাথায় লাটিসোটা দিয়ে আঘাত করলে মাটিতে পড়ে যায়।এক ভারির লাটির আঘাতে আমার বাবাকে তারা মেরে ফেলেছে। আমি আমার বাবাকে নিয়ে হসপিটালে চলে আসি। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ রায়হান বলেন,আবুল কাসেম আমাদের চাচা। নুরুল হক নামে এক ব্যক্তি পাকা ঘর নির্মাণ করছিল। তিন ভাইয়ের পুকুরের জায়গায় জোরপুর্বক দখল করে কাজ করছিল। কাজ না করার জন্য ইয়াকুব মেস্ত্রী কে আমার চাচা বাঁধা দিলে হারুন লাঠিসোটা দিয়ে জোরেশোরে আঘাত করে পরে সমশুল ইসলাম দুটি লাটি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। হসপিটালে এসে দেখি আমার চাচা মারা গেছেন।
চরম্বা জামেউল উলুম মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক শফিকুর রহমান বলেন,সকালে মাদ্রাসায় এসে ক্লাস নেন আমাদের সুপার হুজুর। আমাদের সাথে একসাথে বসে চা খেয়েছে। পরে শুনলাম সুপার সাহেব বাড়িতে গেছে,তার সাথে জায়গা জমি নিয়ে মারধর হয়েছে।তাকে হামলার খবর শুনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে দেখি তার লাশ। সুপার হুজুরকে যারা হামলা করে হত্যা করেছে তাদের বিচারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আবু আদনান মোঃ সাঈদী বলেন, হসপিটালে তিনজন রোগীকে জায়গা-জমির বিরোধের মারধরের ঘটনায় নিয়ে আসা হয়। আবুল কাসেম নামে এক ব্যক্তি হসপিটালে নিয়ে আসার পুর্বেই নিহত হয়। বাকি দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেকে প্রেরণ করা হয়েছে।
চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ হোসেন বলেন, ঘটনাটি মর্মাহত ও দুঃখজনক।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। কবির আহমদের ছেলে সমশু ও হারুন মিলে মাদ্রাসার সুপার আবুল কাসেম হুজুরকে মারধর করে।খবর পেয়ে হসপিটালে এসে দেখি চিকিৎসক তার মৃত ঘোষণা করেন। জায়গা-জমি নিয়ে ঘটনা ঘটতে থাকলে আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি হবে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করলে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবদুল্লাহ ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিকসহ থানার পুলিশের ফোর্স টিম।
ওসি মোঃ আবদুল্লাহ বলেন, এ ঘটনাটি খুব মর্মান্তিক ও দুঃখজনক।লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত সমশুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।ব্যাপক তদন্ত চলছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।