রায়হান সিকদারঃ
সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল। এতে বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে গ্রামের সাধারণ মানুষদেরকে ভালো চিকিৎসার নামে এবং গর্ভবতী মা ও তাদের আত্মীয় স্বজনদেরকে বিভিন্ন ভয় ভীতি দেখিয়ে সিজার করাতে বাধ্য করে থাকে। গ্রামের সাধারণ রোগীদেরকে হয়রানী থেকে মুক্ত করতে এবং মানুষের দৌড়গোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা সুনিশ্চিত করতেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন। তারই আলোকে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০২৫সালে জানুয়ারি মাস থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ১৬মাসের মধ্যে ১৭৭৯জনের মধ্যে ১৬৮৩ জন মায়ের নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সুস্থ শিশুর জন্মগ্রহণ হয়েছে, যা লোহাগাড়ায় নজিরবিহীন দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।এছাড়াও ঝুঁকি থাকার কারণে ৯৬জন কে সিজারিয়ানের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে প্রসূতি মা ও শিশুরা সবাই ভালো আছেন বলে জানা গেছে।
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০২৫সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২৬সালের এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১৭৭৯টি ডেলিভারি সম্পন্ন সম্পন্ন হয়েছে। যার কারণে লোহাগাড়ার প্রসূতি মায়েদের মাঝে আস্থার জায়গা তৈরী হয়েছে।
সোমবার (২ মে) উপজেলা স্বাস্থ্য,প.প কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনের আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় প্রসূতি সেবার মান আরো উন্নত করতে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত নতুন ২টি ডেলিভারি টেবিল সংযোজন করা হয়েছে। এতে প্রসবসেবা আরো সহজ, নিরাপদ ও মানসম্মত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭৭৯টি নরমাল প্রসব এবং সিজারের মাধ্যমে ৯৬ জন শিশু জম্মগ্রহণ করে। অন্যান্য চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নিরাপদ সন্তান প্রসবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এতে করে প্রসূতি মায়ের ডেলিভারির হার দিন দিন পাচ্ছে।
প্রসূতি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সদের সমন্বয়ে আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের কারণে প্রসূতি নারীদের আস্থা বেড়েছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, উপজেলার ৯ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র, নিম্ম মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত প্রসূতিরা সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বল্প খরচে এই প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন। এতে তাদের আর্থিক সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ির বিড়ম্বনাও কমেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই কার্যক্রমকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সেবাপ্রার্থীরা।
হসপিটালে সেবা নিতে আসা আমেনা বেগম নামে এক প্রসূতি মায়েদের সঙ্গে কথা বললে তিনি প্রতিবেদককে বলেন , শুরুতে তাদের নরমাল ডেলিভারিতে ভয় লাগলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাঠকর্মী ও চিকিৎসকদের পরামর্শ ও আশ্বাসে হাসপাতালে এসে নিরাপদে স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। এতে আমাদের খরচ কমেছে, আমরা সুস্থ হয়ে বাচ্চা কে নিয়ে বাড়িতে ফিরতে পারছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রোজী সিদ্দিকি বলেন, হসপিটালে প্রতিদিন অনেক রোগী দেখি। সরকারি হসপিটালে রোগীরা সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবাটাই পাচ্ছে।আমরা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা রোগীদেরকে হসপিটালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসলে সুন্দন পরামর্শ দিয়ে থাকি এবং হাসপাতালে এসে নিরাপদে স্বাভাবিক প্রসব করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, গেল বছরের ২০২৫সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২৬মালের এপ্রিল মাস মোট ১৬ মাসে ১৭৭৯জনের মধ্যে ১৬৮৩ জন মায়ের নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সুস্থ শিশুর জন্মগ্রহণ হয়েছে।এছাড়াও ঝুঁকি থাকার কারণে ৯৬জন কে সিজারিয়ানের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে প্রসূতি মা ও শিশুরা সবাই ভালো আছেন। গর্ভবতী মায়েদের প্রসব পূর্ববর্তী ও পরবর্তী চিকিৎসা ও পরমার্শ প্রদান করা হচ্ছে। এতে নিয়মিত নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বাড়ছে। সেবার মান আরো উন্নত করতে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত ইতিমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন ২টি ডেলিভারি টেবিল সংযোজন করা হয়েছে। এতে প্রসবসেবা আরো সহজ, নিরাপদ ও মানসম্মত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ডা. মোহাম্মদ ইকবাল আরও বলেন,মূলত স্বাভাবিক প্রসবে সরকারিভাবে প্রসূতি নারীদের উদ্বুদ্ধকরণে স্বাভাবিক নিয়মে এ সকল শিশুর জন্ম হয়েছে। খুব বেশি ঝুকিপূর্ণ না হলে সিজার না কারনোর চেষ্টা এবং ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির ফলে স্বাভাবিক প্রসবে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষেরা।
তিনি বলেন, আমরা প্রসব পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করছি, যার ফলে স্বাভাবিক প্রসবের হার বাড়ছে।”, “অপ্রয়োজনীয় সিজার এড়াতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ মাতৃসেবা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নতুন ডেলিভারি টেবিল সংযোজনের মাধ্যমে সেবার মান আরও উন্নত হবে।”
তিনি সেবাপ্রার্থীদের উদ্দেশ্যে ডা. মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, “হাসপাতালে এসে রোগীরা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। কারো কোনো অভিযোগ থাকলে সরাসরি জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সবার আন্তরিক সহযোগিতায় এই হসপিটালের সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যসেবার এ অগ্রগতি লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন এলাকার সচেজন জনসাধারণ।