রায়হান সিকদারঃ
নুরুজ্জাহান। তার স্বামীর নাম মোঃ ফোরকান। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের ৬নাম্বার ওয়ার্ডের পহরচাঁন্দা আদর্শ গ্রামে। তিনি গত সপ্তাহেও ইউনিয়ন পরিষদে এসেছেন, এ সপ্তাহে রোববারে এসেছেন বোর্ড অফিসে। প্রতিবেদককে সাথে কথা বলে জানা গেছে, তিনি তার মায়ের মুত্যুসনদ ও ওয়ারিশ সনদ নিবেন পরিষদ থেকে। কিন্তু পরিষদে নেই ইউনিয়ন সচিব। দীর্ঘদিন ধরে পুটিবিলা ইউনিয়নে সচিব নেই। পাশাপাশি উপজেলার বড়হাতিয়া ও আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদেও সচিব নেই। সচিব না থাকার কারণে সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে।যথাযথভাবে এলাকার জনসাধারণ পাচ্ছেনা সেবা কার্যক্রম।
জানা গেছে, লোহাগাড়া উপজেলায় ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ৯ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউনিয়ন( পুটিবিলা, বড়হাতিয়া ও আধুনগরে) কোন সচিব নেই। একজন সচিবের কাঁধে দুটি ইউনিয়নের দায়িত্ব পড়েছে। যেসব ইউনিয়নে সচিব নেই, সেখানে অন্য ইউনিয়নের সচিবরা দুই দিন ধরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
জনবল সংকটের কারণে এসব ইউনিয়ন সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ঠ তথ্য সুত্রে জানা গেছে।তবে কয়েকজন সচিব বলছেন, সচিব নিয়োগ পরীক্ষা ইতিমধ্যে হয়েছে,তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনো বন্ধ রয়েছে।
৮৫ বছরের বৃদ্ধা হালিমা বেগম, তিনি পুটিবিলা গৌড়স্থান এলাকার বাসিন্দা তিনি এসেছেন, সেবা নিতে। সচিব না থাকার কারণে তিনি সেবাটা নিতে পারেনি, সেবা না পেয়ে ফিরে গেছেন বাড়িতে।
জানা যায়, এক ইউপি সচিব পাশাপাশি দুই ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করছেন। এক সচিব পাশাপাশি দুই স্থানে দায়িত্ব পালনে ব্যাহত হচ্ছে জনসেবা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন দুই পরিষদের মানুষ। এটি সাধারণত স্থায়ী কোনো সমাধান নয়, বরং জনবল সংকটের কারণে অস্থায়ী বা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে এমন দায়িত্ব দেওয়া। জন্ম নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন জরুরি সেবার জন্য সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদ সেক্রেটারি (সচিব) মিঠুন দাশ বলেন, আমার মূল দায়িত্ব পদুয়ায়। যেহেতু নতুন করে আধুনগর ইউপিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এজন্য ২দিন সেখানে দায়িত্ব পালন করছি।
আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অপু চৌধুরী বলেন,আমার স্থায়ীভাবে নিয়োগ আমিরাবাদে। নতুন করে বড়হাতিয়ায় দুইদিনের জন্য দায়িত্ব পালন করছি। জনবল সংকটের কারণে পদগুলো শুন্য পদে রয়েছে। ইতিমধ্যে সচিব নিয়োগের পরীক্ষা হলেও নিয়োগ হয়নি। তারা নিয়োগ হলে সংকট কেটে যাবে। এটি স্থায়ীভাবে সচিব থাকলে সেবার মানের জন্য খুব ভালো হতো।
চরম্বা ইউপির ২নাম্বার ওয়ার্ড ইউপি সদস্য শওকত ওসমান বলেন, সপ্তাহে দুইদিন সচিব পরিষদে থাকেনা। অন্য ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করে। আমার ওয়ার্ডের জনগন পরিষদে সেবা নিতে গিয়ে নিরুপায় হয়ে সেবা না পেয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে। কারণ সচিবের কাছে অফিসিয়াল সব ধরণের ডকুমেন্টগুলো থাকে। স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ডিসি মহোদয়ের সুদৃষ্ঠি কামনা করছি।
চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের সেক্রেটারি (সচিব) সুকান্ত দাশ বলেন, স্থায়ীভাবে চরম্বার দায়িত্ব থাকলেও দুইদিন পুটিবিলা ইউপিতে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।সরকারিভাবে দুটি ইউপিতে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়েছে। তাই দায়িত্ব পালন করছি। দুইটি জায়গায় দায়িত্ব পালনে যেমন আমাদের কস্ট হচ্ছে ঠিক তেমনি এলাকার জনগণ তাৎক্ষণিক সেবা কার্যক্রমে ব্যাহত হতে হচ্ছে।
চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ সৈয়দ হোসেন বলেন, পরিষদের সচিবের দায়িত্ব খুব বেশি। আমাদের পরিষদের সচিব অন্য,ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করার কারণে জনসাধারণ সেবা কার্যক্রম পেতে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সময়ে প্রত্যেক ইউনিয়ে সচিব নিয়োগ দিলে এলাকার সাধারণ জনগণ সেবা নিলে ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হবেনা।
আমিরাবাদ ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মাস্টার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সচিবের পদটা আসলেই খুব গুরুত্বপুর্ণ। তাদের দায়িত্ব অফিসিয়াল কাজ বেশি থাকে। পরিষদে স্থায়ীভাবে সচিব থাকলেও তিনদিন আমাদের পরিষদে কাজ করে এবং অন্য আরেকটি ইউনিয়নে দুইদিন দায়িত্ব পালন করে যাতে জনগনকে সেবা দিতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পদুয়া ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ লেয়াকত আলী বলেন,সচিব আমাদের পরিষদের স্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করলেই অন্য ইউনিয়নে সচিব না থাকায় এখানে তিনদিন, অন্যত্র ইউনিয়নে দুইদিন দায়িত্ব পালন করে থাকে। এতে করে সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে।
বড়হাতিয়া ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান আজিজুল হক বলেন, লোহাগাড়ার সবচাইতে স্বচ্ছ ইউনিয়ন হলো বড়হাতিয়া। এখানে অনেকদিন ধরে সচিব নেই।যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে সব ধরণের সেবা কার্যক্রম। দুইদিনের জন্য আমিরাবাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব আমাদের পরিষদে আসেন। সেবা দিতে দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাই দ্রুত সময়ে স্থায়ীভাবে সচিব নিয়োগ দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক(ডিসি) মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
পুটিবিলা ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল বলেন,আমাদের পরিষদে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী কোন সচিব নেই। দুইদিন চরম্বা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব পরিষদে আসেন। এতে করে প্রতিনিয়ত আমাদের সেবার কার্যক্রম চালাতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগ চট্টগ্রামের পরিচালক মনোয়ারা বেগম বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জেনেছি। লোহাগাড়ায় যেসব ইউনিয়নে সচিব নেই, সেগুলোতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সচিব নিয়োগ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।