ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি মন্তব্য করেছেন, ইসরায়েল না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রেরও অস্তিত্ব থাকত না। তার এই বক্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সঙ্গে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক হওয়ায় নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাকাবি বলেন, “ইসরায়েল না থাকলে আমেরিকাও থাকত না। ইহুদি ঐতিহ্য ও এই ভূমির ইতিহাস যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
তার এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের বিষয়টি তুলে ধরছেন এবং একইসঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন।
সম্প্রতি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া ইসরায়েল টিকে থাকতে পারত না। আমি যা করেছি, তা অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট করতে রাজি ছিলেন না।” তার এই বক্তব্যের সঙ্গে হাকাবির মন্তব্যের স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেও ট্রাম্প নেতানিয়াহুর কিছু পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
২০২৫ সালের এপ্রিলে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া হাকাবি একজন ব্যাপটিস্ট ধর্মযাজক ও সাবেক গভর্নর। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ইসরায়েলপন্থী অবস্থানের জন্য পরিচিত। সমালোচকদের অভিযোগ, তিনি অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের চেয়েও ইসরায়েলের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেন।
এর আগে সাংবাদিক টাকার কার্লসনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে হাকাবি অধিকৃত পশ্চিম তীরকে ‘জুডিয়া ও সামারিয়া’ নামে উল্লেখ করেন এবং ইসরায়েলের ভূখণ্ড সম্প্রসারণ নীতির প্রতি সমর্থন জানান।
এছাড়া ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের তুলনায় ইসরায়েল বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে বেশি সতর্কতা দেখিয়েছে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্প ও হাকাবির পরস্পরবিরোধী মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।