গেল বছরের জুনে বিনা উসকানিতে ইরানে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েল। জবাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ে ইসরায়লের বেশ কয়েকটি শহর। ইসরায়েলের সঙ্গে জোট বেঁধে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্থানে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রও। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে অভিনব এক উদ্যোগ দিয়েছে ইরান।
সম্প্রতি প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, একটি সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনার ওপর কংক্রিটের ঢাল নির্মাণ করে তার ওপর মাটি দিয়েছে ইরান। তেহরান থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই পারচিন কমপ্লেক্স ইরানের অন্যতম সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনা।
২০২৪ সালের অক্টোবরে পারচিনে হামলা চালায় ইসরায়েল। হামলার পরের স্যাটেলাইট চিত্রে সেখানে একটি আয়তাকার ভবনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা যায়। ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বরের ছবিতে সেখানে পুনর্নির্মাণ শুরু হয়। ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবরের চিত্রে সেখানে ছোট-বড় তিনটি নতুন স্থাপনা দেখা যায়।
গত ১৪ নভেম্বরের চিত্রে বড় স্থাপনাটির ওপর ধাতব ছাদ বসানো হয়েছে বলে মনে হয়। কিন্তু ১৬ ফেব্রুয়ারির চিত্রে সেটি আর দেখা যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেটি কংক্রিট কাঠামোর আড়ালে লুকানো হয়েছে।
ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি (আইএসআইএস) গত ২২ জানুয়ারির এক বিশ্লেষণে জানায়, ওই স্থানে নতুন নির্মিত ‘তালেগান ২’ নামে চিহ্নিত স্থাপনাটির চারপাশে ‘কংক্রিট সারকোফাগাস’ নির্মাণে অগ্রগতি হয়েছে।
আইএসআইএসের প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড অলব্রাইট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘আলোচনা স্থগিত থাকায় ইরান গত দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে নতুন তালেগান ২ স্থাপনাটি মাটিচাপা দিতে ব্যস্ত। আরও মাটি প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং শিগগিরই এটি সম্পূর্ণ অচেনা একটি বাঙ্কারে রূপ নিতে পারে, যা আকাশপথের হামলা থেকে উল্লেখযোগ্য সুরক্ষা দেবে।’
জানুয়ারির শেষ দিকে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইসফাহান কমপ্লেক্সে দুটি সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ মাটিচাপা দেয়ার নতুন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র যে তিনটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলা চালায়, ইসফাহান তার মধ্যে অন্যতম। ফেব্রুয়ারির শুরুতে আইএসআইএস জানায়, সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্সের সব প্রবেশপথ ‘সম্পূর্ণভাবে মাটিচাপা’ দেয়া হয়েছে।
আরও কিছু চিত্রে দেখা গেছে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে নাতানজের প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের নিচে থাকা সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্সের দুটি প্রবেশপথকে ‘কঠোর ও প্রতিরক্ষামূলকভাবে শক্তিশালী’ করার কাজ চলছে। নাতানজে ইরানের আরও দুটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা