রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

মাছ চাষে তিন বন্ধুর অভাবনীয় সাফল্য, লাখ টাকার পুঁজি থেকে কোটি টাকার সাফল্য

প্রকাশিত : ১:৩৮ পূর্বাহ্ন রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

 

রায়হান সিকদারঃ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া
ইউনিয়নের উত্তর পদুয়া গ্রামের আমানুল হক প্রকাশ আমান মেম্বার ও তার ২বন্ধু নিষ্ঠা, সততা এবং পরিশ্রমের ফলে অল্প সময়ের মধ্যে মাছ চাষ করে অর্জন করেছেন অভাবনীয় সাফল্য। লাখ টাকা বিনিয়োগ করে তারা এখন কোটি টাকার ব্যবসায় এ মাছ চাষে। আমানুল হক আমান পদুয়া ইউপির ১নং ওয়ার্ডের একজন জনপ্রতিনিধি।তিনি আবার একজন মৎস্য চাষি। তার দু` বন্ধুসহ তিনজনেই শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তারা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য শুরু করেন মাছ চাষ। ২০০৪ সালে মাত্র ২ লাখ টাকা পুঁজিসহ মঈশা পুকুর নামে ১টি পুকুর লিজ নিয়ে শুরু হয় তাদের পথচলা। এরপর তাদের আর পেছনে তাকাতে হয়নি। তারা সৌখিনের বসে পড়ে ব্যবসা শুরু করলে তারা এখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী।

সরেজমিন তাদের মৎস্য খামারে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের উত্তর পদুয়া গ্রামে মঈশা মুড়া গ্রামে সখের বসবর্তী হয়ে একটি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন পরবর্তীতে আমানসহ তার সহপাঠী জঙ্গল পদুয়া গ্রামে ৪টিসহ তারা এখন মোট ৫টি পুকুরে মাছ চাষ,করেছেন। তারা সেখানে রুই, কাতলা, মৃগেল, জাপানি, তেলাপিয়া, পাঙাশ, টেংড়াসহ বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা হ্যাচারি থেকে সংগ্রহ করে পুকুরে চাষ করে বড় করা হয়।তারা মাত্র ২ লাখ টাকা দিয়ে মাছ চাষ ব্যবসা শুরু করে কোটি টাকায় তাদের ব্যবসায় দাঁড়িয়েছে। মাছ চাষে পুকুরে প্রতিদিন নিয়মিত খাবার দিতে হয়। প্রতি বছর মার্চ মাসের শুরুতে পুকুরে মাছের পোনা ছেড়ে দেওয়ার পর ১০ মাস ধরে মাছগুলো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে বড় করে বছরে দু থেকে তিনবারের মত দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে ট্রাকযোগে বিক্রি করা হয়।

সৌখিন ও সফল মাছ চাষী, পদুয়া ইউপি মেম্বার মোঃ আমানুল হক আমান জানান, তারা তিন সহপাঠী মিলে তাদের লিজকৃত পুকুরে প্রতিবছর এক হেক্টরে ১২.৯ টন মাছ উৎপাদন হয়। মাছ চাষ করে একদিকে তারা যেমন নিজেরা স্বাবলম্বী হয়েছেন, অপরদিকে তাদের এই সফলতা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি আরও জানান, মাছ চাষে আমিষের চাহিদা পূ্রণে ভূমিকা রাখে। আমাদের মাছের খামে কেয়ারটেকাররা দেখাশুনা করে। তারা পুকুরে মাছের খাদ্য দিয়ে থাকে। তারাও কর্মসংস্থান পাচ্ছে।আমরা মাছ চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছি।তাদেরকে এ ব্যবসায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অফিস সার্বিক সহযোগীতা দিয়ে যাচ্ছেন।

 

স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা সরওয়ার জানান,আমান মেম্বারসহ তিন সহপাঠী মিলে মাছ চাষ করে এখন সফলতার মুখ দেখেছেন।তাদের মত এলাকার যুবক-তরুণদের কে মাছ চাষে এগিয়ে আসলে এলাকার, দেশের জন্য অনেক উপকার করে। বেকারত্ব কমে আসবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তপন কুমার বেপারী
জানান, তারা মাছ চাষে সফলতা অর্জন করেছে।মৎস্য চাষীরা আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখলে তাদের কে পরামর্শ দিতে পারি।বিশেষভাবে সরকারিভাবে তাদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

আরো পড়ুন