মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১

৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ছলিম উল্লাহ

প্রকাশিত : ৫:৩৯ পূর্বাহ্ন মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১

ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভা সদরে এহসান সোসাইটি নামে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান কয়েকশ’ গ্রাহকের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ ছলিম উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তিনি নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার মুহাদ্দিস। গ্রাহকদের টাকা ফেরত না দিয়ে মাওলানা ছলিম উল্লাহ গা ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে গ্রাহকরা স্থানীয় প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন। এছাড়াও গ্রাহকরা মানববন্ধন এবং ফটিকছড়ি থানায় মামলা করেছেন। মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। ১নং আসামি করা হয়েছে মাওলানা ছলিম উল্লাহকে। অন্য আসামিরা হলেন মুফতি মনির বিন হাসান ও মাওলানা জাবের হোসাইন।

গ্রাহকদের অভিযোগ, মাওলানা ছলিম উল্লাহ ২০০৭ সালে এহসান সোসাইটি চালু করেন। এহসান সোসাইটিকে ইসলামী শরিয়াভিত্তিক ও সুদমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার সুদ না খেয়ে তার প্রতিষ্ঠানে ডিপিএস খোলার জন্য স্থানীয়দের উদ্বুদ্ধ করা হয়। তিনি যেহেতু নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস ও আলেম, তার কথায় বিশ্বাস করে স্থানীয়রা হিসাব খুলতে শুরু করেন।

গ্রাহকদের বলা হয়, তাদের জমানো টাকা ছয় বছরে দ্বিগুণ বা ইসলামী শরিয়া মোতাবেক কমবেশি হবে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ডিপিএসের মেয়াদপূর্তি দুই বছর বাড়িয়ে আট বছর করা হয় এবং শর্ত দেওয়া হয়, মেয়াদপূর্তির আগে কোনো লভ্যাংশ গ্রাহককে দেওয়া হবে না। এভাবে অন্তত আট বছর অর্থ লেনদেন করার পর গ্রাহকদের ডিপিএসের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার শেষ মুহূর্তে অভিযুক্তরা গা ঢাকা দেন।

গ্রাহকদের মধ্যে নাজিরহাট কুম্ভরপাড়া গ্রামের মো. হারুনের লভ্যাংশসহ পাওনা ১৩ লাখ টাকা, দৌলতপুরের এবিসি এলাকার এয়াকুবের আট লাখ, মাওলানা ছলিম উল্লাহর নিজের বাড়ির জাহেদুল আলমের চার লাখ, দৌলতপুরের আবদুল মান্নানের ২০ লাখ, নাজিরহাট বাজারের ন্যাশনাল ফার্মেসির মালিক মোস্তফার নয় লাখ, জান্নাত হোটেলের মালিক জাকির সওদাগরের পাঁচ লাখ টাকা।

গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার একজন শিক্ষক হয়েও চট্টগ্রাম শহর ছাড়াও কক্সবাজার ও ফটিকছড়িতে অসংখ্য বিলাসবহুল আবাসিক ভবন ও ভূসম্পদের মালিক ছলিম উল্লাহ। বিভিন্ন ব্যাংকে সঞ্চিত রয়েছে তার মোটা অঙ্কের টাকা।

মাওলানা ছলিম উল্লাহর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, প্রথম থেকে আমি এহসান সোসাইটির সঙ্গে জড়িত থাকলেও ২০১৩ সালের দিকে পদত্যাগ করি। বর্তমানে গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তার সম্পর্কে জানতে চাইলে নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা হারুন বলেন, এহসান সোসাইটির সঙ্গে মাদ্রাসার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মাওলানা ছলিম উল্লাহর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। এর দায়ভার মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বহন করবে না।
এই ঘটনা নিয়ে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ স্মারকলিপি আকারে নাজিরহাট পৌরসভার মেয়র সিরাজ- উদ-দৌলার কাছে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সূত্র: আরটিএম২৪ডটকম

আরো পড়ুন