বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

তুহিন হত্যাকারীর ফাঁসির দাবীতে বিক্ষোভ: সড়ক অবরোধ

প্রকাশিত : ৮:০৮ পূর্বাহ্ন বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

খোরশেদ আলম শিমুল,দেশবাংলা:

হাটহাজারী পৌরসভার ফটিকা গ্রামের শাহজালাল পাড়ায় অষ্টম শ্রেনির স্কুল ছাত্রী তাসনিম সুলতানা তুহিন(১৩)হত্যার বিচারের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত শিক্ষার্থীসহ এলাকার সাধারন মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে।গতকাল মঙ্গলবার হাজার হাজার শিক্ষার্থী হাটহাজারী উপজেলা পরিষদের সুম্মুখে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে মানববন্ধন,বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে।এসময় পার্বত্য জেলা রাঙ্গামটি মহাসড়কের সাথে ১ঘন্টা সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল।
এদিকে তুহিন হত্যার সাথে জড়িত মুন্না সোমবার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৬৪ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দিতে ঘাতক নিজের হাতে নাক,মুখ ও গলাচেপে ধরে শ^াসরোধ করে স্কুলছাত্রী তুহিনকে একাই হত্যা করেছে বলে হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বেলাল উদ্দীন জাহাঙ্গীর জানান।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খুন হওয়া তুহিনের নিজ গ্রাম গড়দুয়ারা ,হাটহাজারী সমিতি ,সংযুক্ত আরব আমিরাত,হাটহাজারী গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজ,হাটহাজারী পাবতী সরকারীমডেল উচ্চ বিদ্যালয়,হাটহাজারী সরকারী কলেজ ও সর্বস্তরের জনসাধারন প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী উপজেলা পরিষদের সুম্মুখে মানববন্ধন,বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করে।প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন,মাদকসেবী বখাটে খুনি মুন্না ও তার সহযোগীদেও দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবী করেন। এঘটনায় তুহিনের ভাই জাবেদ বাদী হয়ে খুনি মুন্না তার পিতা পল্লী চিকিৎসক মোঃ শাহজান এবং মাতা নিগার সুলতানার নামে সোমবার রাতে হাটহাজারী মডেল থানায় মামলা(মামলা নং২৫,তারিখ১৭.৯.১৮ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৯(২)৩০ধারা সহ দন্ডবিধির ২১১ধারা)দায়ের করেছেন।
উল্লখ্য,শুক্রবার(১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তুহিন ভবনের নিচ তলা নানার বাসা থেকে তাদের বাসা ২য় তলায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার জন্য বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরে আশেপাশে অনেক খোঁজাখুজি করেও তাকে পাওয়া না গেলে ওই দিন সন্ধ্যায় নিখোঁজের ঘটনায় স্থানীয় মডেল থানায় ডায়েরিও করা হয়েছিল। তবে ঘাতক বখাটে মুন্নাকে নিহতের পরিবারের সন্দেহ হচ্ছে বলে পুলিশকে জানালে ঐদিন শুক্রবার রাতেই বখাটে মুন্নার বাসায় তল্লাশী চালিয়েও তুহিনের সন্ধান পায়নি পুলিশ। পরে তুহিনের পরিবার ও স্থানীয়রা বখাটে মুন্নাকে আটক করে পুলিশের হাতে তোলে দিলেও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে তাকে ছেড়ে দেয়। স্থানীয়রা জানায়, তুহিনকে হত্যা করে বখাটে মুন্না তার বাসার সোপার নিচে লাশ লুকিয়ে রাখে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড হয়ে থাকতে পারে। এদিকে নিখোঁজের ২ দিন পর হত্যাকান্ডের স্বীকার তুহিনের শরীরে পঁচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে বাসা ছেড়ে খুনি মুন্নার বাবা,মা কৌশলে সরে পড়ে এবং বেকায়দায় পড়ে যায় বখাটে মুন্না। তাই রবিবার বিকালে ধরা খেয়ে গন পিটুনির ভয়ে সে নিজেই মডেল থানায় গিয়ে পুলিশকে ধরা দিয়ে স্বীকারোক্তি দেয়। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক হত্যা করে লুকিয়ে রাখা সোফা সেটের নিচ থেকে প্লাষ্টিকে বস্তাবন্ধী তুহিনের লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

আরো পড়ুন