বাংলাদেশ, , রোববার, ২০ জুন ২০২১

মেঘের রাজ্যের ‘ডিম পাহাড়

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১৫ ০০:০০:৪৫ || আপডেট: ২০১৮-০৯-১৫ ০০:০০:৪৫

      আলীকদমের পর্যটন

মমতাজ উদ্দিন আহমদ, আলীকদম (বান্দরবান) : বান্দরবানের অপরূপ প্রকৃতির মাঝে নির্মিত দেশের সবচেয়ে উঁচু ‘আলীকদম-থানচি সড়ক’ এর বর্ণনা কারো পক্ষে সহজে দেয়া সম্ভব নয়। অবর্ণনীয় সবুজ প্রকৃতির মাঝে আরেক বিস্ময় সড়কটির ২২ কিলোমিটার পয়েন্টে অবস্থিত ‘ডিম পাহাড়’। ৩৩ কিলোমিটার সবুজাভ পাহাড়ে আঁকাবাঁকা সর্পিল পথ। ঘনসবুজ পাহাড়ের পাথুরে ঢালে বয়ে চলছে ঝর্ণাধারা। কল্কল্ শব্দে ঝরে এসব ঝর্ণার শীতল জল। অন্যদিকে ডিম পাহাড় এলাকায় দাড়িয়ে ছোঁয়া যায় আকাশের সাদা মেঘ!

দেশের ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের কাছে বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আলীকদম-থানচি সড়কের ‘ডিম পাহাড়’। প্রকৃতির অনাবিল সৌর্ন্দয আর বৈচিত্র্যময় পরিবেশে এ যেন প্রকৃতির দান! পাহাড়ের বুকে ৩৩ কিলোমিটার এ সড়কপথে যাত্রা নয়, বলা যায় রোমাঞ্চও। ডিম পাহাড়ে যাওয়ার রাস্তাটির বিশেষত্ব হচ্ছে এটি দেশের সবচেয়ে উঁচু সড়ক। আলীকদম থেকে এই রাস্তা ওপরের দিকে উঠেছে এবং ডিম পাহাড়ের কাছাকাছি রাস্তার উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ২৫০০ ফুট।

শ্রাবণের এই ঘন বর্ষায় ডিম পাহাড় এলাকাটি থাকে সাদা মেঘে আচ্ছন্ন। যেন মেঘের ওপরে সড়ক! সেখানে গেলে পর্যটকরা পান আকাশের মেঘ ছোঁয়ার অভিজ্ঞতা! বর্ষায় ভ্রমণে রাস্তার অর্ধেকটাজুড়ে সাদা মেঘ আপনার সঙ্গী হবে বারবার। কাছে এসে যেন দূরে চলে যায় মেঘদল। আবার মেঘদল যেন বলে দেয় এখানে পথ হারালে ফিরে যাওয়া হবে কঠিন! ডিম পাহাড় এলাকাটি সবুজের চেয়েও সবুজ। পাহাড়ি রাস্তার ধারে ধারে ফুটে আছে নানা রঙের পাহাড়ি ফুল। পর্যটকদের যেন মনে করিয়ে দেয় জাতীয় কবির ‘ছন্দে ছন্দে দুলে আনন্দে আমি বন ফুল গো’ গানের কলি। মেঘের ফাঁকে রোদের ঝিলিক বৃষ্টিভেজা ফুলগুলো উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করে!

১৯৯৯ সালে এ সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রথম দুই বছরে মাত্র ৬ কিলোমিটার নির্মাণ করে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। এরপর সংস্থাটি জানিয়ে দেয়, পাহাড়ের চূঁড়ায় সড়ক বানানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ২০০১ সালে সেনাবাহিনী এ সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পায়। হেলিকপ্টারে করে সড়ক নির্মাণের সম্ভাব্য পথ নির্ধারণ করা হয়। পাহাড়ের পর পাহাড়ের গা কেটে তৈরি হয় পথ। এ সড়ককে ঘিরে একে একে সন্ধান মিলছে অসংখ্য ঝিরিনির্ঝর, ঝরণা, জলপ্রপাত ও আর সুউচ্চ পাহাড়।

আলীকদম-থানচি সড়ক নির্মাণের আগে কক্সবাজার, আলীকদম, লামা ও রুমা থেকে থানচি যেতে হতো বান্দরবান ঘুরে। থানচি থেকে যেতেও একই পথ ব্যবহার করতে হতো। প্রতিবেশী আলীকদম-থানচির দুরত্ব ছিল ১৯০ কিলোমিটার। সড়ক নির্মাণের পর দুই উপজেলার দূরত্ব এখন ৩৩ কিলোমিটার। সাম্প্রতিক ভারি বর্ষণে পর্যটকবান্ধব এ সড়কটির একাধিক পয়েন্টে রাস্তা ধসে গেছে। তবে মোটর বাইক নিয়ে এখনো চলাচল করা যাচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজিমুল হায়দার জানান, কয়েকদিন আগে তিনি স্বপরিবারে ডিম পাহাড় ঘুরে এসেছে। যাওয়ার পথে আধাঘন্টার ব্যবধানেই তিনি তিন রকের আবহাওয়া লক্ষ্য করেছেন। যাওয়ার পথে হঠাৎ বৃষ্টি, পুরেপুরি মেঘে ঢাকা পথ এবং ঝলমলে রোদ। পশ্চিম আকাশ পরিষ্কার থাকায় তারা ডিম পাহাড় থেকে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলরাশিও দেখেছেন।

কিভাবে যাবেন : ঢাকা-চট্টগ্রাম কিংবা কক্সবাজার থেকে বাস করে চকরিয়া বাস স্টেশন নামতে হবে। চকরিয়া থেকে বাসে করে আলীকদম বাসস্টেশন নামবেন। সেখান থেকে জীপ গাড়ি ভাড়া নেয়া যায়। অথবা বাস স্টেশন থেকে অটো রিক্সায় পানবাজার এসে ভাড়ায় চালিত মোটর বাইক নিয়ে ডিম পাহাড় যাওয়া যায়। ডিম পাহাড় ঘুরে ১০/১২ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পাড়ি দিলেই পৌঁছা যায় থানচি। বান্দরবান থেকে যেতে চাইলে আগে লোকাল বাসে কিংবা চান্দের গাড়িতে করে থানচি বাজার চলে যান। এরপর থানচি বাজার থেকে চান্দের গাড়ি কিংবা মোটরবাইকে করে ডিম পাহাড়। অতপর: গিরিনন্দিনী আলীকদম…।

মনে রাখবেন: আলীকদম-থানচি সড়কটি নিরাপত্তার স্বার্থে এখনো সেনা নিয়ন্ত্রিত। পর্যটকরা আলীকদম থেকে ডিম পাহাড় থানচি যেতে চাইলে আলীকদম জোন সদর হতে পূর্বে অনুমতি নিতে হবে। অন্যথা সড়কের ১০ কিলোমিটারে অবস্থিত থিংকু পাড়া সেনা চেক পোস্টের সেনারা আপনাকে যেতে দিবে না!

Comments

Add Your Comment

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

MonTueWedThuFriSatSun
21222324252627
282930    
       
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
       
       
   1234
567891011
       
 123456
78910111213
282930    
       
     12
31      
    123
25262728293031
       
     12
       
    123
       
      1
30      
293031    
       
     12
3456789
       
  12345
       
1234567
891011121314
22232425262728
2930     
       
    123
       
    123
45678910
25262728   
       
 123456
78910111213
14151617181920
28293031   
       
     12
24252627282930
31      
   1234
567891011
2627282930  
       
     12
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031