শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

লোহাগাড়ার চরম্বায় এক পরিবারের রুপনকৃত ধানক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা

প্রকাশিত : ৯:৫২ অপরাহ্ন শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

লোহাগাড়া অফিসঃ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের বোড অফিস সংলগ্ন এলাকায় এক পরিবারের রুপনকৃত ধানক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। এ ব্যাপারে চরম্বা পুর্ব হিন্দু পাড়া এলাকার মৃত ধনেঞ্জ দে এর পুত্র মনোরঞ্জন দে বাদী হয়ে চরম্বা চৌধুরী পাড়া এলাকার মৃত যতিন্ত্র লাল চৌধুরীর পুত্র জহুর লাল চৌধুরী(৫০) ও নয়ন চৌধুরী (৪০) কে বিবাদী করে লোহাগাড়া থানার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে,মনোরঞ্জন দে এলাকার একজন সাধারণ ব্যবসায়ী।উল্লেখিত বিবাদীগণের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বাদীর জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলিয়া আসছিল।বিবাদীরা তার বাবার মৌরশী সম্পত্তি জোরপুর্বক দখল করার জন্য পায়তারা চালাচ্ছিল।গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতের অন্ধকারে বিবাদীরা তাদের রোপনকৃত ধানক্ষেতে বিষাক্ত ঔষুধ দিয়া নষ্ট করে দিয়েছে।অভিযোগে আরো উল্লেখ, উক্ত বিষয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নিলে বিবাদীরা তাকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি-ধমকি প্রদান করে আসছে। এ ব্যাপারে মনোরঞ্জন দে উক্ত প্রতিবেদককে বলেন,জায়গাটি তাদের মুরশী সম্পত্তি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে স্হিত রয়েছে।বিগত সময়ে থানা প্রশাসন,স্হানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গগণের সহযোগিতা নিয়ে আমরা আমাদের জায়গাতে ধানক্ষেত রুপন করি। কিন্তু প্রতিপক্ষরা আমার রুপনকৃত ধানক্ষেতে বিষাক্ত ওষুধ দিয়া নষ্ট করে দেয়।স্হানীয় গ্রাম পুলিশ কৃষ্ণ চৌধুরী বলেন,উক্ত জায়গাগুলো মনোরঞ্জন দে`র মুরশী সম্পত্তি। বিবাদীগণ অহেতুক ভাবে তাদের হয়রানী করছে। চরম্বা ইউপির ১নং ওয়ার্ড মেম্বার মুহাম্মদ সৈয়দ হোসেন বলেন,উক্ত জায়গা নিয়ে অনেক দিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এ বিষয়ে স্হানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গগণ নিয়ে শালিসি বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু তার বিচারে তারা রাজি নন হয়নি। চরম্বা ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার শফিকুর রহমান বলেন,উক্ত জায়গা নিয়ে উভয় পক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। জায়গাতে মনোরঞ্জন ধানক্ষেত রুপন করেছিল।আর বিষাক্ত ওষুধ দিয়ে ধানক্ষেত নষ্ট করার ঘটনাটি সত্যিই। তবে,তাদের এই জায়গা নিয়ে অনেক দিন ধরে উভয়পক্ষের চট্টগ্রাম ও সাতকানিয়া আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও তিনি জানান।অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা লোহাগাড়া থানার এএসআই বিল্লাল জানান,অভিযোগ হাতে পেয়েছি।ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি জানান।অন্যদিকে,অভিযুক্ত জহুর লাল চৌধুরী বলেন,তারা আমাদেরকে বিভিন্ন ধরণের অহেতুক হয়রানী করছে।উক্ত জায়গাটি তাদের পৈত্তিক সম্পত্তি।শতবছর ধরে আমাদের দখলে আছে।আমি এবং আমার ভাই নয়ন চৌধুরীর নামে নামজারী আছে।আমরা উক্ত ধানক্ষেতে কোন প্রকার বিষ দিই নাই।মন্দিরে গিয়ে তারা আমাদেরকে শপথ করিয়াছেন। তিনি আরো বলেন, উক্ত জায়গা সংক্রান্তে চট্টগ্রাম ও সাতকানিয়া আদালতে বেশ কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।প্রতিপক্ষরা আমরা দুই ভাইকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানী করে আসছে। তাদের দায়েরকৃত ঘটনাটি সম্পুন্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন।

আরো পড়ুন