বাংলাদেশ, , সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

মেয়রের হয়ে কারাগারে আত্মীয়, ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১০ ২১:৫৭:৩৭ || আপডেট: ২০১৮-০৯-১০ ২১:৫৭:৩৭

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চার মামলায় গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র মো. আনিছুর রহমানের স্থলে তার এক আত্মীয়ের প্রক্সি দেয়া ও জামিন নামঞ্জুর হয়ে কারাগারে যাওয়ার ঘটনায় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আজ সোমবার ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমান খান রাজধানীর কোতোয়ালি ও গাজীপুরের শ্রীপুর থানাকে এই নির্দেশ দেন।

গত শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) মেয়র আনিছুর সরকারি সফরে নয় দিনের জন্য ইন্দোনেশিয়া যান। গতকাল রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) মেয়রের রূপ ধারণ করে তার আত্মীয় নূরে আলম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে তার সত্যতা নিশ্চিত করেন আজ।

এ সম্পর্কে দুদকের প্রসিকিউটর রুহুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা একটি পত্রিকার প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানতে পারি, আসামি আনিছুর রহমানের স্থলে তার এক আত্মীয় আত্মসমর্পণ করে কারাগারে গেছেন। তাই আমরা আজ আদালতে দরখাস্ত দেই। আজ ওই চার মামলার একটিতে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকায় আসামিকেও আদালতে আনা হয়।  বিচারক তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি প্রক্সির কথা স্বীকার করেন।

মেয়র আনিছুর রহমানের প্রক্সি দেয়া নূরে আলাম আদালতে জবানবন্দিতে বলেন, মেয়র আনিছুরের নির্দেশে তিনি এ কাজ করেন। তিনি আসলে মেয়র নন। আনিছুর রহমানই মেয়র।

নিজের নাম নূর আলম বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মেয়র আনিসুর রহমানই এই মামলার আসামি। তার স্থলে আমি এই মামলায় গত ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করি। আদালত জামিনের দরখাস্ত নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। আমি আনিছুরের রূপ ধারণ করে আত্মসমর্পণ করে ভুল করেছি। আমি ক্ষমা চাই।’

মেয়র আনিছুর গত ৮ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়া গেছেন জানিয়ে নূর আলম জবানবন্দিতে বলেন, ‘তার  (মেয়র) নির্দেশেই আমি তার রূপ ধারণ করে আত্মসমর্পণ করি। আইনজীবী রেজাউল করিম আবু আমাকে হাজিরা দিতে বলেন।’

আইনজীবী রেজাউল করিম আবুর দাবি তিনি মেয়রকে ব্যক্তিগতভাবে চিনেন না।  বলেন, ‘আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তি নিজেকে মেয়র পরিচয় দেয়। আমরা তাকে আত্মসমর্পণ করাই। এর বেশি কিছু আমরা জানি না।’

রবিবার নুরে আলম (মেয়র আনিছুর রূপে) এবং শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক হিসাবরক্ষক আ. মান্নান আত্মসমর্পণ করেন। আনিছুর চার মামলায় ও আ. মান্নান দুই মামলায় আত্মসমর্পণ করেন।

ওই আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান খান শুনানি শেষে আনিছুর রহমানের এক মামলায় ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন। তবে অপর তিন মামলায় জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আর আ. মান্নানকে দুই মামলাতেই জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান আদালত।

মামলাগুলোর মধ্যে একটি মামলায় অভিযোগ, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে ২০১০ সালে শ্রীপুর পৌরসভার অন্তর্গত ৫টি হাট-বাজার থেকে ৭ লাখ ৩৫ হাজার ২শ টাকা আত্মসাৎ করেন। ওই ঘটনায় ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই দুদকের উপসহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০১৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন।

আরেক মামলায় অভিযোগ, পৌরসভার রশিদের মাধ্যমে আদায়কৃত ট্যাক্স ও বিবরণীর ৪৩ লাখ ৭৬ হাজার ১০৭ টাকা পৌরসভার তহবিলে জমা না করে আত্মসাৎ করেন আসামিরা। ওই ঘটনায় ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি দুদকের উপসহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন। ২০১৬ সালের ১২ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিট দাখিল করেন।

অপর দুই মামলায়ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

Comments

Add Your Comment

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

MonTueWedThuFriSatSun
 123456
78910111213
282930    
       
     12
31      
    123
25262728293031
       
     12
       
    123
       
      1
30      
293031    
       
     12
3456789
       
  12345
       
1234567
891011121314
22232425262728
2930     
       
    123
       
    123
45678910
25262728   
       
 123456
78910111213
14151617181920
28293031   
       
     12
24252627282930
31      
   1234
567891011
2627282930  
       
     12
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031