রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

পেঁয়াজ চাষে সফলতার মুখ দেখলেন আধুনগরের চাষী মুুহাম্মদ আবদুল কাদের

প্রকাশিত : ৫:৪০ পূর্বাহ্ন রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

 

রায়হান সিকদারঃ

আমদানি নির্ভরতা কমাতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে প্রথমবারেই সফলতার দেখা পেয়েছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর কুলপাগলী গ্রামের কৃষক আবদুল কাদের। এই প্রথম লোহাগাড়ায় পেঁয়াজ চাষ।কৃষক আবদুল কাদের রশিদারঘোনা কুলপাগলী গ্রামের মৃত এজাহার মিয়ার পুত্র।

দেশের বেশির ভাগ কৃষক শীতকালীন পেঁয়াজ চাষ করেন। ফলে গ্রীষ্মকাল আসতে আসতে পণ্যটির দাম বেড়ে যায়। বিদেশ থেকে আমদানির পরও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পেঁয়াজ চাষের জন্য বিদেশ থেকে এনে চারা উৎপাদন করতে হয়। তবে এই বীজটা তাহেরপুরী-১৪। চট্টগ্রামের উপজেলার আধুনগর কুলপাগলী রশিল্ল্যা বিলে ৩৩শতকের জায়গায় কৃষক আবদুল কাদের পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ২০২১-২২ এর নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষীপুর, চাঁদপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কর্মসূচির আওতায় কৃষক আবদুল কাদেরকে জমি চাষ ও সার প্রয়োগসহ সার্বিক বিষয়ে ব্যয় নির্বাহ করতে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সবধরণের সহযোগীতা দেওয়া হয়। এরপর চারা রোপণের পর থেকে অন্যান্য সহযোগিতা দিয়ে যায় কৃষি বিভাগ। যাতে করে কৃষক আলোর মুখতে শুরু করে প্রকল্পটি। কৃষি বিভাগ সুত্রে আরও জানায়, রবি মৌসম কিংবা শীতকালিন সময়ে পেঁয়াজ চাষ করছিল কৃষক আবদুল কাদের।এখন পেঁয়াজ উত্তোলনের সময় এসেছে। পেয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন সময়ে পেঁয়াজের আকার, স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিমান অনেক উন্নত। দেশের বিভিন্ন স্থানে এবার এই পেঁয়াজ চাষ প্রথম উপজেলা হিসেবে লোহাগাড়ায় পেঁয়াজ উত্তোলন করে বাম্পার ফলন পাওয়া গেছে।

উপজেলার আধুনগর কুলপাগলী গ্রামের কৃষক আবদুল কাদের জানান,৩৩শতকের জায়গায় তাহেরপুরী-১৪ পেঁয়াজ চাষ করেছেন। মাত্র ১ মাস ২৮দিনে এই পেঁয়াজ তোলার উপযোগী হয়েছে। এখন পেঁয়াজ বিক্রী শুরু করেছি। আমি পেঁয়াজ বিক্রী করে অনেক লাভবান হবো। কৃষক আবদুল কাদের আরও বলেন, ‘এই সময়ে পেঁয়াজ হবে কি না তা নিয়ে ভয় ছিল। তবে কৃষি অধিদপ্তরের স্যারদের সহযোগিতায় ভালো ফলন হয়েছে। বাজারে দাম বেশ ভালো।’

এই ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রবিউল আউয়াল জানান, পেঁয়াজগুলো দেখতে লাল। মাত্র সাতটি পেঁয়াজের ওজন এক কেজি ১৭০ গ্রামের বেশি। বাজারে প্রতি কেজি পাতাসহ পেঁয়াজ ৩০টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে কৃষক আবদুল কাদেরকে সবধরণের সহযোগীতা দেওয়া হয়েছে।তিনি

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘লোহাগাড়া উপজেলায় আধুনগর কুলপাগলী গ্রামে এই প্রথম পেঁয়াজের চাষ। এই পেঁয়াজের চাষ করে ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। এ চাষ করতে ইউরিয়া, টিএসপি, পটাশ, ভার্মিকম্পোস, টিপসামগুলো ব্যবহার করা হয়। এসব সার কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষক আবদুল কাদেরকে সহযোগীতা প্রদান করা হয়।

কৃষক আবদুল কাদেরের কাছ থেকে দেখে অন্য কৃষকরাও পেঁয়াজের আমদানি কমাতে ভবিষ্যতে আরও বেশি পরিমাণ জমিতে এমন পেঁয়াজ চাষ করা হবে।’

ইউএনও মুহাম্মদ আহসান হাবীব জিতু বলেছেন, বেশির ভাগ পেঁয়াজ দেশের বাইরে থেকে আমদানী করা হয়। তবে লোহাগাড়ায় আধুনগর কুলপাগলী গ্রামে এই প্রথম পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে সত্যিই অনেক ভাল লাগছে। তার ব্যবসার সফলতা থেকেই অন্যারাও আগ্রহী হবে এ চাষ করতে। ভবিষ্যতে এর পরিধি বাড়লে আমদানি নির্ভরতা কমে যাবে বলেও তিনি জানান।

আরো পড়ুন