শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাড়ছে অপরাধ

প্রকাশিত : ১১:১৭ অপরাহ্ন শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধে। ক্যাম্পগুলোতে তুচ্ছ ঘটনা থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ছে। নিজেদের মধ্যে অধিপত্য বিস্তার, ত্রাণের ভাগ-ভাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ, পূর্ব শক্রতার জের, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যার চেষ্টা, হত্যা, চাঁদাবাজীসহ নানা সহিংস ঘটনা দিন পর দিন বেড়ে চলেছে।
এমন অপরাধ কর্মকান্ড ও সহিংস ঘটনায় উখিয়া-টেকনাফের স্থায়ী বাসিন্দারা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। রীতিমত ভাবিয়ে তুলেছে প্রশাসনকেও।
উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, গত ১ বছরে উখিয়ার ২০টি ক্যাম্পে প্রায় ১০জন রোহিঙ্গা তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুন হয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন ছোট-বড় অসংখ্য ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় নাগরিক ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে তফাৎ হচ্ছে, স্থানীয়রা অপরাধ করলেও আইনকে ভয় পান। রোহিঙ্গাদের মধ্যে সেই ভয় নেই। তারা অইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাথে কীভাবে কথা বলতে হয়, তাও জানে না।
টেকনাফ থানার ওসি রনজিত বড়–য়া জানান, গত ৬ মাসে টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১০-১২ জন রোহিঙ্গা খুন হয়েছেন। বিভিন্ন অপরাধে প্রায় অর্ধশত অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য মতে, গত ১ বছরে ৩০টি ক্যাম্পে ২০ জন রোহিঙ্গা খুন হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন অপরাধে প্রায় শতাধিক অভিযোগের তদন্ত চলছে। ক্যাম্পে সহিংসতা প্রতিরোধে পালাক্রমে পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও রোহিঙ্গাদের সহিংসতা রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। যা প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলেছে।
সর্বশেষ গত সোমবার ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ও বিকালে পৃথক অভিযান চালিয়ে হোয়াইক্যং চাকমারকূলের গহীন অরণ্য থেকে পুলিশ আহত অবস্থায় ৬ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে। তাদের মধ্যে ৩ জনকে গলাকেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
জানা গেছে, উদ্ধারকৃত ৬ রোহিঙ্গাকে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্প থেকে অস্ত্রধারী রোহিঙ্গারা অপহরণ করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের আটকে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের বরাদ দিয়ে টেকনাফ থানার ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া জানান, তাদেরকে হত্যার উদ্দেশ্যে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী ক্যা¤প থেকে অস্ত্র ঠেকিয়ে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে কারা এ অপহরণ ঘটনায় জড়িত, তা জানা যায়নি।
তিনি জানান, ৬ জন রোহিঙ্গাকে হত্যা চেষ্টার দায়ে জাবেদ মাঝি বাদী হয়ে অজ্ঞতানামা রোহিঙ্গাদের আসামি করে একটি মামলা করেন।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবসার উদ্দিন চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গাদের মধ্যে হিংসা ও রেষারেষি বেশী। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তারা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
বালুখালী ক্যাম্পের হেড মাঝি লালু মিয়া জানান, ১৬ আগস্ট সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বালুখালী শিয়াল্লা পাড়ার প্রধান সড়কে সিএনজি ট্যাক্সি থামিয়ে রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তরা আরিফুল্লা মাঝিকে কুপিয়ে হত্যা করে। ৩০ আগস্ট উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গাদের মাঝে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ৩১ আগস্ট শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি ব্লকের রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তের গুলিতে মো. আবু ইয়ছির (২২) নামের এক রোহিঙ্গা যুবক ঘটনাস্থলে নিহত হন। ধারাবাহিক এসব অপরাধ কর্মকান্ডে স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, ৩০টি ক্যাম্পে আছেন প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা। এতো বিপুল জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তারপরও নিত্যদিন ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশংসনীয়। একই সাথে সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সূত্র: দৈনিক পূর্বদেশ

আরো পড়ুন