মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১

“চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক “সাতকানিয়া-লোহাগাড়া অংশে খানাখন্দক, ভোগান্তি চরমে

প্রকাশিত : ৪:৩৮ পূর্বাহ্ন মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১

শহীদুল ইসলাম বাবর

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া-লোহাগাড়া অংশের অন্তত ১৮ কিলোমিটার সড়কে ব্যাপক খানাখন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চালকেরা।
স্থানীয়রা বলছেন, নিম্নমানের সংস্কার কাজ ও সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই মূলত সড়কটি প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে খানাখন্দকে ভরে যায়। আর সড়কটির নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়ের মিয়া জানান, অতি বর্ষণের কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এত দিন বৃষ্টির কারণে মেরামত করা যায়নি। তবে এখন সড়কটি মেরামত করা হবে।
সূত্র জানায়, চট্টগাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন ও লাখ খানেক মানুষ যাতায়াত করেন। পর্যটন শহর কক্সবাজার জেলা, পার্বত্য জেলা বান্দরবানসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাথে দেশের উত্তরাঞ্চলের সাথে সড়ক যোগাযোগের এক মাত্র মাধ্যম এ সড়কটি। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দকের সৃষ্টি হয়। আর এ খানাখন্দকের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের।
ব্যবসার কারণে নিয়মিত এই পথে যাতায়াত করা ওসমান আলী বলেন, সাতকানিয়ার বিওসির মোড় শঙ্খনদীর ব্রিজ থেকে লোহাগাড়ার আধুনগর পর্যন্ত অন্তত ১৮ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা একেবারেই নাজুক। সড়কের বিভিন্ন স্থান বিশেষ করে বিওসির মোড়, মৌলভীর দোকান, নয়াখালের মুখ, খুনি বটতল, কেরানীহাট, সাতকানিয়ার রাস্তার মাথা, হাসমত আলী সিকদারের দোকান, সিকদার দোকান, মিঠাদিঘী, রাজঘাটা সবজি বাজার, ঠাকুর দিঘী, পদুয়া তেওয়ারী হাট, আর আউলিয়া ডিগ্রী কলেজ, রাজঘাটা, আমিরাবাদ মোটর স্টেশন, মোস্তাফিজুর রহমান ডিগ্রী কলেজ, লোহাগাড়া থানা ও উপজেলার সামনের সড়ক, আধুনগর বাজারসহ আরো বেশ কয়েকটি স্থানে শত শত গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। এ ভোগান্তিতে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন যানবাহন চালকেরা।
বাস চালক জিয়াবুল হোসেন বলেন, সড়কে সৃষ্ট এসব গর্তের কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার পাশপাশি এক ঘন্টার পথ যেতে তিন ঘন্টার বেশি সময় লাগছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শুধু সাধারণ যাত্রীরা নয়, প্রতিদিন হাজারো দেশী বিদেশী পর্যটক বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত দেখতে এই পথ দিয়ে কক্সবাজারে যাতায়াত করে থাকেন।
তাছাড়া মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দেখতেও প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন দেশের ক‚টনৈতিক, মন্ত্রী ও দাতা সংস্থার শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তারা এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছেন। সড়কটিতে এমন ভোগান্তির কারণে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে বলেও দাবী করেন জিয়াবুল হক।
এ বিষয়ে দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল মিয়া বলেন, আমরা গর্তগুলো তৎক্ষানিক ভাবে ভরাট করে দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ভরাট করে দেওয়া স্থানে আবারো গর্তের সৃষ্টি হয়। আমাদের সংস্কার কাজ চলছে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের এই অংশটির সংস্কার কাজ শেষ হবে।

আরো পড়ুন