মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১

সাতকানিয়ায় শঙ্খনদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন:বাড়ছে ভাঙ্গন

প্রকাশিত : ৫:২৫ পূর্বাহ্ন মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১

একদিকে ভাঙনরোধে শত শত কোটি টাকার
প্রকল্প:অন্যদিকে ভাঙনের আয়োজন!

শহীদুল ইসলাম বাবর,দেশবাংলা. নেট
দক্ষিন চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার দুঃখনামে খ্যাত শঙ্খনদের ভাঙনরোধে গ্রহণ করা হয়েছে শত শত কোটি টাকার প্রকল্প। স্থানীয় সংসদ সদস্য সম্প্রতি পৃথক পৃথক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা ব্যায়ে ভাঙনরোধের জন্য পাথরের বøক বসানোর কাজ উদ্বোধন করেন। ভাঙনরোধ প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু না হলেও এ নদীতে ড্রেজার বসিয়ে ভাঙন বৃদ্ধির আয়োজন করা হয়েছে। এনিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের অন্ত নেই।
এ ক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ড়ের ভূমিকা দেখা না গেলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে ড্রেজার মেশিন ও অবৈধ ভাবে উত্তোলনকৃত প্রায় ৬০ হাজার ফুট বালু জব্দ করেন। এসময় অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে আব্দুর রহিম চৌধুরী নামের এক ব্যাক্তিকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানায় আব্দুর রহিম চৌধুরীর নাম আসলেও বালু উত্তোলনে স্থানীয় আরিফুল ইসলাম ও খোরশেদ আলম নামের ব্যাক্তিদ্বয় সক্রিয় ভাবে জড়িত বলে জানা গেছে। তারাই মূলত বালু উত্তোলন করে উত্তোলনকৃত বালু ভাঙনরোধ প্রকল্পের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বিক্রয় করার পরিকল্পনা করেছিল।
জব্দকৃত বালু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মোবারক হোসেন নলুয়া ইউপি চেয়ারম্যান তসলিমা আক্তারকে বিধি মোতাবেক নিলামে বিক্রির উদ্যেগ নিতে বলেন। এ বিষয়ে জানতে নলুয়া ইউপি চেয়ারম্যান তসলিমা আক্তারকে বার বার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
জানা যায়, সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় শঙ্খ ও ডলু নদীর ভাঙনরোধে ৩শ ৩৩ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ১১ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা ব্যায়ে চরতী ইউনিয়নের দ্বীপ চরতীতে ৭শ মিটার, দক্ষিন চরতীতে ১শ ৫০ মিটার, উত্তর ব্রাক্ষণডেঙ্গায় ১০ কোটি ১০ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যায়ে ৮শ মিটার, তুলাতলীতে ১২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যায়ে ৯শ মিটার নলুয়ার মৈশামুড়া এলাকায় ১৭ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ১ হাজার ৩শ মিটার মখতেয়ারের কুম এলাকায় ৮ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকায় ৬শ মিটার, আমিলাইশ ইউনিয়নে ১৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যায়ে ১ হাজার ১শ ৫০ মিটার, মিলিয়ে মোট ৭৫ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা ব্যায়ে শুধুমাত্র সাতকানিয়ার শঙ্খ নদীতে মোট ৫ হাজার ৬শ মিটার ভাঙন কবলিত এলাকায় পাথরের বøক বসানোর কাজ গত ৩ অক্টোবর স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে মখতেয়ারের কুম এলাকায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করেন সংঘবদ্ধ চক্রটি। চক্রের একাধিক সদস্য চেয়ারম্যানের ঘনিষ্টজন হওয়াতে তাদের বিরুদ্ধে টু শব্দটিও করতে সাহস করেনা স্থানীয় বাসিন্দারা। ঐ এলাকার বাসিন্দা আবুল হাসেম জানান, চেয়ারম্যানের নাম ব্যবহার করে উপরোক্ত ব্যাক্তিরা এলাকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
শঙ্খনদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বলেন, আমি খবর পেয়েই অভিযান চালিয়েছি। এবং বালু তোলার সময় ড্রেজার মেশিন জব্দসহ উত্তোলনকৃত প্রায় ৬০ হাজার ঘনফুট বালুও জব্দ করি। এসব বালু স্থানীয় চেয়ারম্যানের জিম্মায় রেখে তা নিলামে বিক্রির নির্দেশ দিয়েছি। গতকাল বুধবার সারা দিনে বেশ কয়েক বার চেয়ারম্যান তসলিমা আক্তারের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। ফোনে রিং হলেও কল রিসিভ করেননি তিনি।

আরো পড়ুন