শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

ঐক্য প্রক্রিয়ায় অনৈক্য শুরু

প্রকাশিত : ১০:১৮ অপরাহ্ন শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক,দেশবাংলা ডটনেট
একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জোট গঠনের প্রক্রিয়া এবং তা নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট নামে এই জোটের ঘোষণা আসে।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোক্তা কামাল হোসেনের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা ঘোষণা পড়ে শোনান মান্না, যিনি বি চৌধুরী নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টেরও সদস্য সচিব।

দিনভর টানাপড়েনের পর যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা সভাপতি বি চৌধুরী ছিলেন না এই সংবাদ সম্মেলনে, যিনি গত কয়েক মাস ধরে কামালের সঙ্গে জোট বাঁধার প্রক্রিয়ায় ছিলেন।

পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকালে কামালের বাড়ি গিয়ে তাকে না পেয়ে ফিরে বি চৌধুরীর বাড়িতে আলাদা সংবাদ সম্মেলন করে ঐক্য প্রক্রিয়া বিনষ্টের জন্য গণফোরাম সভাপতিকেই দায়ী করা হয়।

বি চৌধুরীসহ বিকল্প ধারার নেতারা যখন বেইলি রোডে কামালের বাড়ির ফটকে ছিলেন, তখন মতিঝিলে নিজের পেশাগত চেম্বারে ফখরুল, রব, মান্নাকে নিয়ে বৈঠকে ছিলেন কামাল।

বাড়ির ফটকে থেকে ফেরার সময় বিকল্প ধারার মহাসচিব মাহি বি চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা মনে করি, এই ঐক্যটা না হওয়ার পেছনে কাদের ষড়যন্ত্র আছে, এটা আজ জাতির সামনে পরিষ্কার হয়ে গেল।”

জাতীয় প্রেস ক্লাবে শনিবার সন্ধ্যায় এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বাদ রেখে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট নামে সরকারবিরোধী জোটের ঘোষণা দেন গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে কামাল, মান্না, রবদের সংবাদ সম্মেলনের আধা ঘণ্টার মধ্যে বি চৌধুরীর বাড়িতে আরেক সংবাদ সম্মেলনে মাহি বলেন, ঐক্যের জন্য তারা অনেক ছাড় দিলেও বারবার বাধা পেয়েছেন তারা।ঐক্য গঠনের প্রতিটি পদে তাদের সঙ্গে লুকোচুরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মাহি।

গত বছরের এপ্রিল মাসে বি চৌধুরীর বিকল্প ধারা, রবের জেএসডি ও মান্নার নাগরিক ঐক্য মিলে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট। বি চৌধুরী হন জোটের চেয়ারম্যান, মান্না হন সদস্য সচিব। শুরুতে আবদুল কাদের সিদ্দিকী এই জোটে থাকলেও পরে সরে যান।

অন্যদিকে গণফোরাম সভাপতি কামাল কয়েক বছর আগে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করেন, যার সদস্য সচিব হন আ ব ম মোস্তফা আমীন।

দশম সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জনের পর বি চৌধুরী যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরামের কামালও ওই নির্বাচনে অংশ নেননি।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে সংসদ ভেঙে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং ইসি পুনর্গঠনের ৫ দফা দাবিতে একসঙ্গে আন্দোলন চালাতে একমত হন বি চৌধুরী ও কামাল।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর একযোগে আন্দোলনের ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সাবেক এই দুই নেতা। এরপর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কয়েকটি কর্মসূচিও একসঙ্গে পালন করেন তারা। ৭ দফা দাবি তোলা বিএনপির নেতারাও একটি কর্মসূচিতে যোগ দেন।

এরপর বিএনপির জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়ার বিষয়টি আসে আলোচনায়। তখন এক পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীকে ছেড়ে আসার শর্ত বিএনপিকে দেয় বি চৌধুরীর দল বিকল্প ধারা।

জামায়াতকে নিয়ে বিএনপির কোনো স্পষ্ট বক্তব্য না আসার মধ্যেই ঐক্য প্রক্রিয়ার রূপরেখা চূড়ান্ত করতে শনিবার বিকালে কামাল হোসেনের বাড়িতে বৈঠকের সময় ঠিক হয়। এই বৈঠকে বসার কথা ছিল যুক্তফ্রন্ট, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও বিএনপি নেতাদের।

বৈঠকে যোগ দিতে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বি চৌধুরী বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় যান ছেলে মাহি বি চৌধুরীকে নিয়ে। কিন্তু বাড়ির দরজা বন্ধ দেখে গাড়িতেই কিছুক্ষণ বসে থেকে ফিরে যান তারা।

মাহি সাংবাদিকদের বলেন, “বাসায় দাওয়াও দিয়ে গেইট খোলার কেউ নেই! একজন সাবেক রাষ্ট্রপতিকে এভাবে ডেকে এক রকম ব্যবহার কোনো শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আমরা সংবাদ সম্মেলন করে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করব।”

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া গঠনের পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতারা এর স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আসছিলেন। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, এই ‘জগাখিচুড়ি ঐক্য’ টিকবে না।

প্রক্রিয়া শুরুর মাস না গড়াতেই বি চৌধুরী ও কামালের সম্পর্কের এই ফাটল দৃশ্যত আওয়ামী লীগ নেতাদের ভবিষ্যদ্বাণীর সঠিকতাই তুলে ধরল।

 

আরো পড়ুন