বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

সাতকানিয়া-লোহাগাড়া অংশে খানাখন্দক:ভোগান্তি চরমে

প্রকাশিত : ৮:১৮ পূর্বাহ্ন বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

শহীদুল ইসলাম বাবর
দেশবাংলা.নেট

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া-লোহাগাড়া অংশের অন্তত ১৮ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা বিরাজ করছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছে লাখ লাখ যাত্রী সাধারণ ও যানবাহন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নিম্মমানের সংস্কার কাজ ও সঠিক ভাবে রক্ষানাবেক্ষনের অভাবেই মূলত সড়কটি প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে খানাখন্দকে ভরে যায়। আর সড়কটির নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থা দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীতোফায়ের মিয়া বলেছেন, অতি বর্ষনের কারনে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এত দিন বৃষ্টির কারনে মেরামতও করা যায়নি। তবে এখন মেরামত করে দেওয়া হবে।
সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন হাজারো যানবাহন ও লাখো মানুষ যাতায়াত করেন এই চট্টগাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দিয়ে। পর্যটন শহর কক্সবাজার জেলা ও দক্ষিন চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলা বান্দরবানের মানুষ সারা দেশের সাথে সড়ক যোগাযোগের এক মাত্র মাধ্যম এ সড়কটি।
বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় খানাখন্দক। আর এ খানাখন্দকের কারনে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রী সাধারনের। ব্যবসায়ী কারনে নিয়মিত চট্টগ্রাম শহরে যাতায়াতকারী ওসমান আলী বলেন,সাতকানিয়ার বিওসির মোড় শঙ্খনদীর ব্রিজ থেকে লোহাগাড়ার আধুনগর পর্যন্ত অন্তত ১৮ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা ভাল নয়। সড়কের বিভিন্ন স্থান, বিশেষ করে বিওসির মোড়, মৌলভীর দোকান, নয়াখালের মুখ, খুনি বটতল, কেরানীহাট, সাতকানিয়ার রাস্তার মাথা, হাসমত আলী সিকদারের দোকান, সিকদার দোকান, মিঠাদিঘী, রাজঘাটা সবজি বাজার, ঠাকুর দিঘী, পদুয়া তেওয়ারী হাট, আর আউলিয়া ডিগ্রী কলেজ, রাজঘাটা, আমিরাবাদ মোটর ষ্টেশন, মোস্তাফিজুর রহমান ডিগ্রী কলেজ, লোহাগাড়া থানা ও উপজেলার সামনের সড়ক, আধুনগর বাজারসহ আরো বেশ কয়েকটি স্থানে শত শত গর্ত সৃষ্টি হওয়াতে এ সড়ক দিয়ে যান চলাচলে দারুন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণকে। এহেন ভোগান্তিতে অতিষ্ট যানবাহন সংশ্লিষ্টরা।
সড়কের সৃষ্টি শত শত গর্তের কারনে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার পাশপাশি এক ঘন্টার পথ পাড়ি দিতে সময় ক্ষেপন হচ্ছে তিন ঘন্টা বলে জানান যানবাহন চালক জিয়াবুল হোসেন। ক্ষোভ জানিয়ে জিয়াবুল হক বলেন, এ সড়ক দিয়ে শুধু যাত্রী সাধারণ নয়, প্রতিদিন হাজারো দেশী বিদেশী যাত্রী সাধারণ বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত দেখতে কক্সবাজারে যাতায়াত করে থাকেন। তাছাড়া মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন দেশের কুটনৈতিক, মন্ত্রী ছাড়াও দাতা সংস্থার শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তারা এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। সড়কটিতে এমন ভোগান্তির কারনে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে বলেও দাবী করেন জিয়াবুল হক। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল মিয়া সড়কটিতে খানাখন্দক সৃষ্টি হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা গর্ত গুলো তৎক্ষানিক ভাবে ভরাট করে দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু বৃষ্টির কারনে ভরাট করে দেওয়া স্থানে আবারো গর্তে সৃষ্টি হয়ে যায়। পুরো সড়কেই আমাদের সংস্কার কাজ শেষ পর্যায়ে আছে খুব কম সময়ের মধ্যেই সড়কটির সংস্কার কাজ সমাপ্ত হবে।

আরো পড়ুন