বাংলাদেশ, , রোববার, ১৬ জুন ২০১৯

গণতন্ত্র সুদৃঢ় বলে ভোটে জয়ী জনগণের পছন্দের প্রার্থীরা: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-০৫ ০৮:৫২:৪২ || আপডেট: ২০১৮-০৯-০৫ ০৮:৫২:৪২

বাংলাদেশের গণতন্ত্র সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে জনগণ ভোট দিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে পারছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বুধবার নিজ কাযালয়ে রাজশাহী ও সিলেটে নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সিলেটে বিএনপির প্রার্থীর জয়ী হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাউন্সিলররাও বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন।

“বাংলাদেশ গণতন্ত্র সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রত্যেকটা এলাকার জনগণ ভোট দেওয়ার অধিকার অর্জন করেছে এবং ভোট দিয়ে তাদের মনোনীত প্রার্থীকে জয়যুক্ত করতে পারছে এটাই আজ প্রমাণিত।”

শেখ হাসিনা বলেন, “গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবার জন্য আমরা সংগ্রাম করেছি। নির্বাচনে কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন। সেটাও আমরা সুনিশ্চিত করেছি।

“গণতন্ত্র মানে জনগণের ভোটের অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকারের প্রতি আমরা সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত। আমরা চাই জনগণের অধিকার জনগণের হাতেই থাকবে।  আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব- স্লোগানটা আমারই ছিল আপনারা জানেন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কখনো কখনো ছোট-খাট ঘটনা ঘটে। যেখানেই ঘটে আমরা সাথে সাথে ব্যবস্থা নেই। জনগণের মৌলিক অধিকার তারা প্রয়োগ করবে। তাদের মনমতো প্রার্থী নির্বাচিত করবে।

তিনি বলেন, যদি গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা থাকে তাহলে একটা দেশ উন্নত হয়, সম্মৃদ্ধশালী হয় এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।”

সরকারের ধারাবাহিকতা আছে বলেই আজকে আপনারা পরিবর্তন দেখতে পারছেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ আজকে উন্নয়নের রোল মডেল।”

অনুষ্ঠানে প্রথমে মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও আরিফুল হক চৌধুরীকে শপথ পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী। এরপর রাজশাহীর ৪০ ও সিলেটের ৩৬ জন কাউন্সিলরদের শপথ পাঠ করার স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

নির্বাচত মেয়র ও কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা যে দলই করেন না কেন, আপনাদের সবসময় মাথায় এটাই রাখতে হবে যে, জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে।

এসময় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের কথা তুলে ধরে বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয় ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যের কথাও বলেন তিনি। এছাড়া ২১০০ সাল পযন্ত ডেলটা পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “একারণে যারাই ক্ষমতায় আসুক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে, বাংলাদেশ যেন এগিয়ে যায়, বাংলাদেশ যেন আর কখনো পিছিয়ে না যায় সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

“আমি আশা করবো যে সরকারই আসবে শুধু নিজেদেরই ধনশালী, সম্পদশালী করবে না, জনগণ যেন ধনশালী, সম্পদশালী হয় সেদিকে নিবেদিত থাকবেন, সেদিকেই দৃষ্টি দিবেন।”

জনপ্রতিনিধিদের উদ্দ্যেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা নির্বাচিত প্রতিনিধি। জনগণ আস্থা রেখে আপনাদের ভোট দিয়েছে। যে যে দলই করেন না কেন- স্ব স্ব এলাকার ও জনগণের উন্নয়ই হবে আপনাদের কর্তব্য।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা যে দলেরই হোক না কেন সরকার প্রধান হিসেবে তাদেরকে সব রকমের সহায়তা করার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, “পাশাপাশি এটাও বলবো যদি কোনও অনিয়ম হয়; যদি সেখানে কোনও ধরনের দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদী কাজ হয়, সে যে দলেরই হোক সে কিন্তু রেহাই পাবে না।”

শেখ হাসিনা আরো বলেন, “আমরা দেশকে উন্নত করতে চাই এবং দেশের মানুষের শান্তি, উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।”

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন

Comments

Add Your Comment

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

MonTueWedThuFriSatSun
     12
3456789
17181920212223
24252627282930
       
  12345
       
1234567
891011121314
22232425262728
2930     
       
    123
       
    123
45678910
25262728   
       
 123456
78910111213
14151617181920
28293031   
       
     12
24252627282930
31      
   1234
567891011
2627282930  
       
     12
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031