বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

টংকাবতী খালের ভাঙনরোধে লোহাগাড়ায় স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন

প্রকাশিত : ৯:৪৭ পূর্বাহ্ন বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

রায়হান সিকদার
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের রাজঘাটা এলাকায় ভরাট ও ভিন্নপথে প্রবাহিত হওয়া টংকাবতী খালের অংশ স্বেচ্ছাশ্রমে উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে কাটা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার উক্ত খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু আসলাম। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ্মাসন সিংহ ও চরম্বা ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার শফিকুর রহমান। স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচিতে এলাকাবাসীরা অংশগ্রহণ করে। টানাবর্ষণে এলাকার বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট ভাঙনের কবল থেকে রক্ষার্থে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, চরম্বা টংকাবতী খাল সংলগ্ন রাজঘাটার দলিলুর রহমান বাড়ি ও মাঝের পাড়া এলাকায় ৬শত পরিবার রয়েছে। প্রায় ২০ বছর ধরে উক্ত এলাকার পরিবারগুলো টংকাবতী খাল ভাঙনের হুমকীর মুখে পড়ে। প্রতিবারের টানাবর্ষণে বাড়িঘর খালগর্ভে বিলীন এবং রাস্তাঘাট ভেঙে যায়। সম্প্রতি টানাবর্ষণে ২৪ ঘরবাড়ি খালগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং ৩ শত পরিবার ভাঙনের মুখে পড়েছে। চরম্বা-কলাউজান সংযোগ সড়ক ভেঙে গিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়।
এলাকাবাসীরা জানান, প্রতিবারের টানাবর্ষণে তাদের ঘরবাড়িসহ রাস্তাঘাট ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অবিরাম বৃষ্টি ও খালের ¯্রঠেু বৃদ্ধি পেলে তাদের দু:খের সীমা থাকে না। বহু বছর ধরে এলাকাবাসীরা ভাঙনের শিকার হয়ে আসছে। তাদের এলাকার টংকাবতী খাল অংশ খননের উদ্যোগ নেয়ায় তারা খুশি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক জানান, রাজঘাটার দলিলুর রহমান ও মাঝেরপাড়া এলাকার টংকাবতী খাল ভরাট ও খালের গতিপথ ভিন্নপথে প্রবাহিত হওয়ার ফলে প্রতিবারের টানাবর্ষণে এলাকাবাসী ক্ষতিপ্রস্ত হচ্ছে। বাড়িঘরসহ এলাকার রাস্তাঘাট ভেঙে যাচ্ছে। বহ বছর ধরে এলাকাবাসী এভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এলাকাবাসী, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগে দলিলুর রহমানের বাড়ির পাশ থেকে টংকাবতী খাল অংশ স্বেচ্ছাশ্রমে মাটি কাটা শুরু হয়।
চরম্বা ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার শফিকুর রহমান জানান, প্রতিবার টানাবর্ষণে চরম্বা রজাঘাটা এলাকার মাঝের পাড়া, দলিলুর রহমান বাড়ি পাশস্থ টংকাবতী খালের অংশ ভেঙে গিয়ে প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইতিমধ্যে ৭০ পরিবার খাল ভাঙনের শিকার হয়েছে এবং রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঐ অংশে খাল ভরাট ও খালের গতিপথে প্রবাহিত হওয়ায় টানাবর্ষণ ও প্রবল ¯্রােতে এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ ও এলাকাবাসীর সম্মিালত উদ্যোদে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাটি কাটে। রাজঘাটা দলিলুর রহমানের বাড়ির পাশ থেকে মাঝের পাড়া চালিদাতলী পর্যন্ত খাল কাটা হবে বলে তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু আসলাম জানান, সম্প্রতি টানা বর্ষণে টংকাবতী খালের ভাঙনে চরম্বা রাজঘাটা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরেজমিনে গিয়ে তিনি জানতে পেরেছেন বহু বছর ধরে এলাকাবাসী টংকাবতী খালের ভাঙনের শিকার হচ্ছে। এলাকাবাসী ও ইউনিয়ন পরিষদ জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল কাটা শুরু করা হয়।
খাল ভাঙন ও টানাবর্ষণের প্রবল ¯্রােতের কবল থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষায় এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

আরো পড়ুন