শনিবার, ২২ জুন ২০২৪

হারানো ৫০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিককে ফেরত দিলো লোহাগাড়া থানা পুলিশ

প্রকাশিত : ২:৩১ অপরাহ্ন শনিবার, ২২ জুন ২০২৪

 

রায়হান সিকদার,দেশবাংলাঃ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা থেকে বিভিন্ন সময়ে হারানো বা চুরি হয়ে যাওয়া ৫০টির মত স্মার্ট মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করেছে থানা পুলিশ।

শনিবার (২৫ মে ) রাত ৮টার দিকে থানার অফিসার ইনচার্জ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে প্রকৃত মালিকের কাছে এসব মোবাইল ফোন হস্তান্তর করেন ওসি মোঃ রাশেদুল ইসলাম।

জানা গেছে,লোহাগাড়া উপজেলা ৯ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল হারিয়ে যাওয়ার পরে থানায় জিডি করেন ভুক্তভোগীরা। থানার ওসি মোঃ রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে মোবাইল উদ্ধারে টিম প্রধান এএসআই এসএম রাশেদ হারানো জিডি নিয়ে নিয়মিত কাজ করেন। সেই জিডিগুলোর প্রেক্ষিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে উক্ত হারানো অথবা চুরি যাওয়া মোবাইলগুলো উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করেছে।

মোবাইল ফিরে পেয়ে আধুনগর ইসলামিয়া মাদ্রাসার ফাজিল প্রথম বর্ষের ছাত্র আবু বক্কর জানান,আমি অনেক কস্ট করে মোবাইল ফোনটি কিনেছি। থানায় জিডি করার পর মোবাইল ফোনটি ফিরে পাওয়ায় আমি অনেক খুশী। থানা পুলিশকে ধন্যবাদ।

চুনতির বাসিন্দা,মসজিদের পেশ ইমাম বাদশা মিয়া জানান, আমি অল্প টাকায় মসজিদে চাকরি করি। মসজিদ থেকে আমার মোবাইল ফোনটি বিগত ৫মাস পুর্বে চুরি হয়ে যায়। থানায় এসে জিডি করি। আমার মোবাইল ফোনটি ফিরে পেয়ে কিভাবে আনন্দ লাগছে তা বুঝাতে পারবোনা। সত্যিই আমি অনেক খুশী। ওসি স্যারকে ধন্যবাদ।

মোবাইল ফোন ফেরত পেয়ে আলহাজ্ব মোস্তফিজুর রহমান কলেজের অধ্যাপক মোঃ মিশকাতুর রহমান বলেন, আমার মোবাইল ফোনটি হারিয়ে গেলে আমি থানায় জিডি করি। ভেবেছিলাম জিডি পর্যন্তই শেষ। ফোনটি ফিরে পাবো কখনো আশা করিনি। কিন্তু হঠাৎ লোহাগাড়া থানা থেকে আমাকে ফোন দিয়ে জানায় যে আমার হারানো মোবাইলটি তারা উদ্ধার করেছে। আজ হারানো মোবাইলটি হাতে পেয়েছি। খুব ভালো লাগছে। ওসি সাহেবকে অনেক ধন্যবাদ।

ফোন ফেরত পেয়ে কলাউজান ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, পদুয়া ধলিবিলার বাসিন্দা মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, আমার দুটি মোবাইল হারিয়ে গিয়েছিল।২০২২ সালে একটা, আরেকটি এ বছরের শুরুর দিকে। আমি লোহাগাড়া থানায় জিডি করলাম। কয়েকবার জিডির বিষয়ে থানায় অবগত করলে ওসি রাশেদুল ইসলাম যোগদান করার পরে তাকে বিষয়টি বললাম,তিনি তাৎক্ষণিক জিডির কপি গুলো দিতে বলেন। পরে আমি তাকে জিডির কপিটি দিলে সে আমার হারিয়ে যাওয়া দুটি মোবাইল উদ্ধার করে দেয়।থানার ওসি রাশেদুল ইসলামের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

মোবাইল উদ্ধারে টিম প্রধান,থানার এএসআই এসএম রাশেদ বলেন, মোবাইল উদ্ধারের কাজটিতে অনেক ভাল লাগা কাজ করে।তাই নিজ দায়িত্ব থেকেই কাজ করি। এখন মোবাইল উদ্ধার আমার নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কেউ আমাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ম্যাসেঞ্জারে নক দিয়ে জিডির কপি দিলে ওসি স্যারের নির্দেশনায় বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫০টির মত হারানো মোবাইল তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সেগুলো উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের ফেরত দিয়ে থাকি। আমাদের কাজের মধ্যে এই কাজটি চমৎকার লাগে।

লোহাগাড়া থানার ওসি মোঃ রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমরা খুবই আনন্দিত এ কাজটি করতে পেরে। হারানো কোনো কিছু ফিরে পেলে মানুষ যে আনন্দ পায় এটাই আমাদের প্রাপ্তি এবং আমাদের সাফল্য। যে কোনো প্রয়োজনে থানা পুলিশ আপনাদের পাশে আছে,থাকবে। ওসি আরও জানান,কিছুদিন আগেও ৩০টির মত মোবাইল ফোন উদ্ধার করে দিয়েছি।আবারও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অর্ধ শতাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করেছি। মোবাইল হারিয়ে যাওয়ার পর পরই থানায় এসে একটি জিডি করবেন। হারানো মোবাইল ফিরে পেয়ে মানুষ সত্যি খুশি হয়।

আরো পড়ুন